ভেনেজ়ুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে হাজির করা হয় আদালতে। ছবি: রয়টার্স।
কলম্বিয়ায়ের উদ্দেশে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার পরেই কলম্বিয়ার পক্ষ থেকে আমেরিকাকে বার্তা দেওয়া হয়েছে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য। আমেরিকার সঙ্গে ‘সহযোগিতা অব্যাহত’ রাখার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
সস্ত্রীক মাদুরোকে বন্দি করার সময়ে সিলিয়া ফ্লোরেস (মাদুরোর স্ত্রী) উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে আহত হয়েছিলেন। সে বিষয়েও মূল্যায়ণ করা উচিত বলে দাবি ভেনেজ়ুয়েলার ফার্স্ট লেডির আইনজীবীর।
‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ গ্রিনল্যান্ডে হনার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার প্রেক্ষিতে ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিয়েলসনজানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করতে চায় গ্রিনল্যান্ড। তাঁর কথায়, ‘গ্রিনল্যান্ডকে ভেনেজ়ুয়েলার সঙ্গে তুলনা করা যায় না।’’
ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন হানার কয়েক ঘণ্টা পরেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ফোনে কথা বলেছিলেন ডেলসি রড্রিগেসের সঙ্গে।
ভেনেজ়ুয়েলার আইনসভার প্রধান জর্জ রড্রিগ্রেস জানিয়েছেন, মাদুরোকে দেশে ফেরানোর জন্য সমস্ত উপায় তিনি খুঁজে বের করবন।
নিকোলাসের গ্রেফতারের পরে ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসিকে নিঃশর্ত সমর্থন জানালেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের ছেলে। তাঁর মন্তব্য, দেশ ভালো মানুষের হাতেই আছে।
ডেলসি রড্রিগেস আনুষ্ঠানিক ভাবে ভেনেজ়ুয়েলার অন্তরবর্তীকলিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পর সেখানকার উচ্ছ্বসিত জনতারা দেশের জাতীয় পতাকা হাতে রাজধানি কারাকাসের রাস্তায় নেমে ক্ষমতাচ্যুত প্রসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সমর্থন করতে শুরু করেছেন।
ম্যানহ্যাটন আদলতে মাদুরোর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৭ মার্চ আঞ্চলিক সময় সকাল ১১ টায়।
ডেলসি রড্রিগেস প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পর ভেনেজ়ুয়েলা সরকার নয়া ফরমান জারি করেছে। তাঁরা জানিয়েছেন, যে বা যাঁরা মার্কিন আক্রমণকে সমর্থন করছেন, তাঁদের খুঁজে বের করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
সোমবার ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিলেন ডেলসি রড্রিগেস। ডেলসির ভাই তথা জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ রড্রিগেস তাঁকে শপথ গ্রহণ করান।
সংবাদসংস্থা এপি সূত্রে খবর, শুনানির শুরুতে বিচারকের সামনে আর্জি জানান ভেনেজ়ুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে বন্দি করা হয়েছে। আমি দোষী নই।’’
মাদুরোর মামলার শুনানি শুরু হল নিউ ইয়র্কের আদালতে।
সোমবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা বিষয়ক কাউন্সিলের বৈঠক ছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত জানান, মাদুরোকে ভেনেজ়ুয়েলা থেকে আটক করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ‘আইনপ্রয়োগকারী অভিযান’ ছিল। তিনি এ-ও দাবি করেন, ‘‘আমেরিকা কোনও দেশ দখল করতে যায়নি।’’
নিউ ইয়র্কের আদালতে রয়েছেন মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী। তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে তার আগে থেকেই আদালতে বাইরে জমায়েত। মাদুরোর মুক্তির দাবি নিয়ে অনেকে পোস্টার হাতে জড়ো হয়েছেন।
সোমবার আদালতে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর হয়ে সওয়াল করবেন ব্যারি পোলক।
সুইৎজ়ারল্যান্ডে থাকা মাদুরোর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল সে দেশের সরকার। তবে কত মৃল্যের সম্পত্তি সে সম্পর্কে কোনও তথ্য দেয়নি সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিদেশ মন্ত্রক। একই সঙ্গে এ-ও জানিয়েছে, এই পদক্ষেপে ভেনেজ়ুয়েলার সরকারের থাকা সদস্যদের উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না।
১৯৪৫ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপুঞ্জে এক সনদ স্বাক্ষরিত হয়। সেই সনদের অনুচ্ছেদ ২(৪) অনুযায়ী, সব দেশকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের থেকে বিরত থাকতে হবে! রাষ্ট্রপুঞ্জের সকল সদস্যদেশের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘সকল সদস্য তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্য দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করতে পারবে না।’’ অর্থাৎ, স্পষ্টতই আমেরিকা রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ লঙ্ঘন করেছে।
ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানীতে ঢুকে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে আনার বিযয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘‘আমি গোটা ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমেরিকা এই অভিযান করে আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।’’ তার পরেই ভেনেজ়ুয়েলাবাসীকে এই অস্থির পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন গুতেরেস।
আমেরিকার দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করে ভেনেজ়ুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হয় ভেনেজ়ুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হয়। আর সব কিছুই হয়েছে মাদুরোর নির্দেশে! তাই তাঁকে গ্রেফতার করে মার্কিন বিচারব্যবস্থার সামনে ফেলতে চেয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কথা না-শুনলে বড় মূল্য চোকাতে হবে, ভেনেজ়ুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসকে রবিবার এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পর সুর খানিক নরম করেন ডেলসি। আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্কের বার্তা দেন। ডেলসি জানান, আমেরিকা এবং ভেনেজ়ুয়েলার সম্পর্কে ভারসাম্য এবং শ্রদ্ধা দেখতে চান তিনি। লিখেছেন, ‘‘আমেরিকা ও ভেনেজ়ুয়েলার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ এবং শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক স্থাপন আমাদের অগ্রাধিকার। পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আমরা আমেরিকার সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’’