Donald Trump and Tariff

সুপ্রিম-রায় নিয়ে ‘খেলতে এলে আরও শুল্ক’, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি গোটা বিশ্বকে! দাবি, প্রয়োজনই হবে না কংগ্রেসের অনুমোদনের

জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইনকে হাতিয়ার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক শুল্কনীতি প্রণয়ন করেছিলেন। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে। রায়ে তারা বলেছে, ‘‘জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই শুল্ক প্রয়োগ করা হয়েছে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩১
Share:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের শুল্ক-রায় নিয়ে আবার সরব হলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওই রায়কে ‘বিরক্তিকর’ বলে মনে করেন। তবে এ-ও জানান, সুপ্রিম কোর্ট জানে না, তারা কী ভাবে তাঁকে ‘আরও শক্তিশালী’ করে দিল! কী ভাবে তিনি ‘শক্তিশালী’ হলেন, তাঁর ব্যাখ্যা করেননি ট্রাম্প। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের রায়কে হাতিয়ার করে, যে সব দেশ ‘খেলতে’ আসবে, তাদের উপর আরও শুল্ক চাপাব!’’ এ-ও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শুল্ক চাপাতে, তার মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

Advertisement

জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইনকে হাতিয়ার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক শুল্কনীতি প্রণয়ন করেছিলেন। সেই শুল্ক-জল গড়ায় সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে। রায়ে তারা বলেছে, ‘‘জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের উপর এই বিশাল শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’’

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সমালোচনা করে প্রায় তৎক্ষণাৎই প্রতিক্রিয়া দেন ট্রাম্প। রায়কে ‘হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার পর সোমবার আবার সুপ্রিম-রায়ের সমালোচনা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি এ-ও জানান, তাঁর দেশের সুপ্রিম কোর্টকে তিনি ‘সম্পূর্ণ সম্মান’ করতে পারছেন না। সেই কারণে তাঁর পোস্টে সুপ্রিম কোর্টের উল্লেখ ‘ছোট হাতে’ লিখেছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই রায়ের আগে তাঁর যা ক্ষমতা ছিল, এখন তা আরও কয়েকগুণ বাড়ল!

Advertisement

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ‘লাইসেন্স ফি’-র উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, আমেরিকায় বাণিজ্য করতে গেলে বিদেশি কোম্পানিগুলিকে ‘লাইসেন্স ফি’ দিতে হবে। ১৯৭১ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের দ্বারা এই ক্ষমতা পায় মার্কিন প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেই ‘ফি’ নেওয়া আর যাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের মতে, রায়ে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। কিন্তু তিনি উত্তর জানেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ-ও দাবি করেন, যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকাকে নিংড়ে নিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিলেন। তাঁর আশঙ্কা, আদালত ভবিষ্যতে আরও বিতর্কিত রায় দিতে পারে। সেই রায়ে চিন বা জন্মগত নাগরিকত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলি জুড়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, ‘‘ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্ট এমন রায় দিতে পারে, যা চিন বা অন্য অনেককে সন্তুষ্ট এবং লাভবান করে তুলবে।’’ তিনি মনে করেন, তাঁর কাজ আমেরিকাকে ‘মহান’ করে তোলা। আর সেই কাজে অবিচল থাকবেন বলে জানান ট্রাম্প।

শুধু একটি নয়, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একাধিক পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, কোনও দেশ যদি সুপ্রিম-নির্দেশকে দেখিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ‘খেলতে চায়’ তবে তার পরিণতি আরও ভয়ঙ্কর হবে। তিনি বুঝিয়ে দেন, যে দেশের সঙ্গে, যা শুল্ক নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই শেষ কথা। কোনও ভাবে তার অন্যথা তিনি বরদাস্ত করবেন না। পাল্টা আরও শুল্ক চাপানোর হুমকিও দেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট হিসাবে এই ধরনের শুল্ক চাপাতে, তার কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না।

ঘটনাচক্রে, ট্রাম্পের এই পোস্টের কিছু সময় আগেই ব্লুমবার্গ নিউজের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসে। সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় অনুমোদনের প্রক্রিয়া আপাতত ঠান্ডা ঘরে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে আমেরিকার শুল্কনীতি এখন তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তার পরই ট্রাম্পের পোস্ট। অনেকের প্রশ্ন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কি ঘুরিয়ে ইউরোপ ইউনিয়নকে বার্তা দিতে চাইলেন?

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের শুল্ক-নির্দেশের পরই হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছিল, ‘‘সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে আইইইপিএ অনুসারে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর হবে না। যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা বন্ধ হবে।’’ এরই মধ্যে আবার ট্রাম্প পৃথক ভাবে বিভিন্ন দেশের উপরে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশে স্বাক্ষর করেন। পরে তা বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। সোমবার সুর চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তিনি আরও ক্ষমতাবান এবং শক্তিশালী হলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement