রাজ্যে আর বিরোধী থাকবে না: অরূপ

বিরোধীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার এই ঘটনায় দলের অনেকেই পূর্তমন্ত্রীর মনোভাবের সঙ্গে সহমত নন। আবার, সরকারি কাজের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও বিরোধীদের এ দিন ছন্নছাড়া দশা আরও এক বার প্রকট হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৪:৩৫
Share:

অরূপ বিশ্বাস। —নিজস্ব চিত্র।

দেওয়ার কথা ছিল পূর্ত দফতরের বাজেটের জবাবি ভাষণ। তাকে কেন্দ্র করেই বিধানসভা কার্যত বিরোধীশূন্য করার ডাক দিলেন পূর্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর আস্ফালন দেখে অনেকেই বিগত বাম জমানার মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কথা স্মরণ করেছেন। তিনি এক বার বলেছিলেন, ‘‘আমরা ২৩৫, ওরা ৩০। ওঁদের কথা কেন শুনব?’’

Advertisement

অরূপ অবশ্য বিরোধীদের কথা শোনার যে অবকাশ আদৌ রয়েছে, সে কথাও মনে করছেন না। তাঁর সাফ কথা, ‘‘রাজ্যে বিরোধী বলে আর কিছু থাকবে না।’’ বিরোধী বিধায়কদের আসনের দিকে হাতের ইশারা করে পূর্তমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘দেখা হলেই তো সবাই দলে (তৃণমূলে) আসতে চান। সবাইকেই এক দিন আসতে হবে।’’ এ কথা শুনে বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত বা পুরসভাগুলি এ ভাবেই তৃণমূল বিরোধীশূন্য করেছে। পূর্তমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট, এ বার বিধানসভাতেও তাদের নজর পড়েছে।

বিরোধীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার এই ঘটনায় দলের অনেকেই পূর্তমন্ত্রীর মনোভাবের সঙ্গে সহমত নন। আবার, সরকারি কাজের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও বিরোধীদের এ দিন ছন্নছাড়া দশা আরও এক বার প্রকট হয়েছে। বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে কংগ্রেস বিধায়ক অপূর্ব সরকার যেমন বলেন, ‘‘রাস্তাঘাটের যে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সড়ক বা পরিবহণ পরিকাঠামো অন্য রাজ্যের তুলনায় আমরা এগোতে পেরেছি।’’ কংগ্রেসেরই আর এক বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী পূর্ত দফতরের কাজে নানা অনিয়ম ও বঞ্চনার অভিযোগ করে বলেন, ‘‘খাগড়াঘাট থেকে বহরমপুর আসার পথে ভাগীরথী নদীর ভাঙা সেতু মেরামতির জন্য কি আরও একটি দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে?’’ যদিও দৌলতাবাদের দুর্ঘটনার সঙ্গে রাস্তা খারাপের কোনও সম্পর্ক ছিল না বলেই এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে। আরএসপি’র বিধায়ক নর্মদা রায়ও মনোজবাবুর সুরে সরকারের সমালোচনা করেছেন।

Advertisement

জবাবি ভাষণে বেসুরো বিরোধীদের আক্রমণ করতে গিয়েই তাঁদের সকলেই যে তৃণমূলে আসার জন্য ছটফট করছেন সে কথা জানান পূর্তমন্ত্রী। মনোজকে বিঁধে পূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘‘এত জ্বালা কেন বুঝতে পারছি না। এখন ১০ কোটি টাকার বেশি অঙ্কের টেন্ডার আর মুর্শিদাবাদে হয় না। কেন্দ্রীয় ভাবে কলকাতায় হয়।’’ বাম জমানায় পূর্ত দফতর ছিল আরএসপির হাতে। নর্মদাকে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘তখন তো পূর্ত দফতর পার্টি অফিস থেকে চলত। এখন তা হচ্ছে না। কোনও ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। এফআইআরও করেছি।’’

বাম আমলের শেষ ছয় বছরের সঙ্গে তুলনা করে পূর্তমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূল কাজ করেছে অনেক বেশি। স্বচ্ছতাও বেশি। পরিসংখ্যান দিলেও পঞ্চায়েত ভোটমুখী রাজ্যে বিরোধীদের দেখিয়ে পূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘‘এ সব সবুজ হয়ে যাবে।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন