মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিরোধীদের সর্বভারতীয় মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’র শরিক হলেও বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁরাই একমাত্র লড়ছেন বলে অতীতে বার বার দাবি করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন দল, বাম, অতি বামদেরও এক জোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে মমতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রথমেই তাঁর আহ্বান ফিরিয়ে দিয়েছে সিপিএম। কার্যত একই সুর বামফ্রন্ট শরিকদেরও। বাম জমানার শেষ দিকে তৃণমূলের ‘সঙ্গী’ থাকা বাম দল এসইউসি জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কাছে এমন কোনও প্রস্তাবই আসেনি।
মমতার আহ্বানের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরীর কটাক্ষ, ‘‘এখন দিদি বিপদে পড়েছেন, তাই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ করে সবাইকে ডাকছেন! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন তীব্র হতাশায় ভুগছেন।’’ তাঁর দাবি, ‘‘আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করেই দাঁড়াতে হবে।” এসইউসি-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিতাভ চট্টোপাধ্যায় রবিবার বলেছেন, “এখন পরাজিত হয়ে উনি (মমতা) অনেক কথা বলছেন। আর আমাদের কাছে এমন কোনও প্রস্তাব আসেনি। ফলে, জবাব দেওয়ার প্রয়োজনই নেই!” এই প্রেক্ষিতে বামপন্থী রাজনীতির ভিত্তিতে ‘বাম-ঐক্যে’র পক্ষেও জোর দিয়েছেন অমিতাভ। পাশাপাশি, তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে কেউ যোগ দিতে চাইলে, তাঁদের অবস্থান কী, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, “অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও সাম্প্রদায়িক পরিচয় আছে, এমন কাউকে কোনও মূল্যেই (দলে) ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগণকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।”
এরই মধ্যে একদা ‘নো ভোট টু বিজেপি’ স্লোগান দেওয়া এবং এ বার বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে ভোটে লড়া সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের কিছুটা ‘ভিন্ন সুর’ সামনে এসেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেছেন, “দেশে বিজেপি-বিরোধী বড় মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’ রয়েছে। সেখানে কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম, সবাই আছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সন্ত্রাস ও হিংসার বিরুদ্ধে আমরা প্রথম দিন থেকেই আন্দোলনের রাস্তায় আছি। মমতাও রাস্তায় নামুন। রাস্তাতেই সব বিরোধীদের দেখা হবে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে