এসআইআর-এর কাজে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। —ফাইল চিত্র।
তিন জন আইএএস আধিকারিকের বদলি বাতিল সংক্রান্ত যে নির্দেশ নির্বাচন কমিশন দিয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে সেই মর্মে কমিশনকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজে পর্যবেক্ষক হিসাবে ওই তিন আধিকারিককে নিয়োগ করেছিল কমিশন। অভিযোগ, তার পর কমিশনের অনুমতি ছাড়াই তাঁদের অন্য দায়িত্ব দেয় রাজ্য।
গত ২৮ নভেম্বর এসআইআর-এর কাজে তিন আইএসএস আধিকারিককে নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন। আইএএস অশ্বিনীকুমার যাদবকে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, রণধীর কুমারকে উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তর এবং স্মিতা পাণ্ডেকে পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমের পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল। নিয়ম হল, কমিশন কাউকে কোনও কাজে নিয়োগ করলে তাদের অনুমতি ছা়ড়া ওই আধিকারিককে নতুন কোনও দায়িত্ব দেওয়া বা বদলি করা যায় না। কিন্তু নবান্ন থেকে সেটাই করা হয়। অশ্বিনী এবং রণধীরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং স্মিতাকে বদলি করে দেওয়া হয় অন্যত্র। গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি নবান্ন থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলি জারি করা হয়েছিল।
নবান্নের নির্দেশিকার কথা জানতে পেরে নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। তাদের তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, অবিলম্বে তাদের নির্দেশ বাতিল করতে হবে। দুই আধিকারিকের অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং এক জনের বদলি কার্যকর করা যাবে না। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারির আগে কমিশনের অনুমতি নেওয়ার জন্য রাজ্যকে অনুরোধও করেছিল কমিশন।
নবান্নের তরফে এখনও তিন আইএএস আধিকারিকের অতিরিক্ত দায়িত্ব বা বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। বরং রাজ্য পাল্টা চিঠি দিয়েছে কমিশনকে। বদলি বাতিল করার যে নির্দেশ কমিশন দিয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছে নবান্ন। সূত্রের খবর, একাধিক সমস্যার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের চিঠির জবাবে কমিশন কী জানায়, সেটাই দেখার।