নিজস্ব সংবাদদাতা

তৃণমূলে যোগ দিলেন ‘অপহৃত’ কংগ্রেস সদস্য

তিনি অপহৃত। এমন অভিযোগেই তোলপাড় হয়েছিল জেলা। দু’রাত পার হতে, শুধু তাঁর দেখাই মিলল না, একেবারে কংগ্রেস ছেড়ে সরাসরি তৃণমূলে যোগ দিয়ে জানিয়ে দিলেন, আত্মীয় বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে দলে এনে তৃণমূল হুঙ্কার দিয়েছে, আগামীদিনে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতিও তাঁরা দখল করে নেবেন।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০১ অগস্ট ২০১৬ ০২:২৫
Share:

তিনি অপহৃত। এমন অভিযোগেই তোলপাড় হয়েছিল জেলা। দু’রাত পার হতে, শুধু তাঁর দেখাই মিলল না, একেবারে কংগ্রেস ছেড়ে সরাসরি তৃণমূলে যোগ দিয়ে জানিয়ে দিলেন, আত্মীয় বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে দলে এনে তৃণমূল হুঙ্কার দিয়েছে, আগামীদিনে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতিও তাঁরা দখল করে নেবেন।

Advertisement

গত শুক্রবার রাতে ডাঙ্গাপাড়ার বাড়ি থেকে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য উত্তম সাহা। নিখোঁজ হোয়ার সময়ও তিনি কংগ্রেসেরই সদস্য ছিলেন। উত্তমবাবুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে মুর্শিদাবাদ থানায় শনিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল কংগ্রেস। পাশাপাশি অবস্থান-বিক্ষোভও করেছিল তারা।

শনিবার অবশ্য উত্তমবাবু কংগ্রেস নেতৃত্বকে ফোনে জানিয়েছিলেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়নি। যদিও, কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছিলেন, ভয়ে সত্য বলছেন না তিনি।

Advertisement

উত্তমবাবু যাই বলুন না কেন, তাঁকে ‘অপহরণ’ করে রাখার প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে নাকুড়তাল মোড়ে বহরমপুর-জিয়াগঞ্জ রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস। এদিনই বিকেলে রীতিমতো মঞ্চ বেঁধে অনুষ্ঠান করে উত্তমবাবুকে দলে নিল তৃণমূল।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেই উত্তম সাহা জানান, কোনও অর্থ বা ভয়ে নয়, স্বেচ্ছায় তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু গত শুক্রবার রাত থেকে তিনি কোথায় ছিলেন? তাঁর উত্তর, ‘‘এক আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিলাম। পরিবারের লোকজন সে কথা জানেন না।’’

Advertisement

এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মসরত শেখ বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির ওই সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে বলে একটি রাজনৈতিক দল কুৎসা ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে।’’ তাঁর দাবি, সরকারের উন্নয়নের শরিক হতে চেয়ে ওই পঞ্চায়েত সদস্যই তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি জানান, আগে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকে তাঁদের দখলে কোনও পঞ্চায়েত ছিল না। কিন্তু বর্তমানে আটটি পঞ্চায়েতের মধ্যে পাঁচটি তাঁদের দখলে এসেছে।

মুকুন্দপুর পঞ্চায়েতে অনাস্থা নিয়ে আসা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই পঞ্চায়েতও তাঁদের দখলে চলে আসবে বলেও মসরত শেখ জানান। তিনি বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতিও খুব শিগগির আমরা দখল করব।’’ তাঁর কটাক্ষ, অপহরণের অভিযোগে রাস্তা অবরোধ করে নকুড়তলায় নাটক করছে কংগ্রেস।

জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অপহরণের পরে ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে উত্তমবাবুকে শেষ পর্যন্ত দলে যোগদান করিয়ে নাটকের যবনিকাপাত করল তৃণমূল।’’ তাঁর দাবি, বিষয়টি মানুষ ভাল চোখে দেখছেন না। অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে তাঁরা এই ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement