বহরমপুরে রোড শো-এ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক সমর্থক। কালবিলম্ব না করে বক্তৃতা থামিয়ে দ্রুত ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। উপস্থিত জনতার সহযোগিতায় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হল অসুস্থ সমর্থককে।
শনিবার বিকেলে বহরমপুরে অভিষেকের রো়ড শো চলাকালীন এক সমর্থক আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লে হইচই শুরু হয়ে যায়। বিষয়টি লক্ষ্য করা মাত্র বক্তৃতা থামিয়ে দেন অভিষেক। জানতে চান, কী হয়েছে। ভিড়ের মধ্য থেকে কিছু উত্তর আসে। তা শুনে অভিষেক ফের বলেন, ‘‘জল দাও। সুগার ফল করেছে। একটু মিষ্টি কিছু দাও। আমার গাড়িতে থাকবে। লজেন্স থাকলে দাও। কোনও অসুবিধা নেই। ঠিক হয়ে যাবে।’’ এর পর উদ্যোগ নিয়ে ওই সমর্থকের জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাও করেন তিনি। ভিড় ঠেলে অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য রাস্তা করে দেন সমর্থকেরা। তড়িঘড়ি অসুস্থ ওই ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানা গিয়েছে, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ায় ওই ব্যক্তি অসুস্থ বোধ করছিলেন। আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
শনিবারের রোড শো থেকে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার নিহত শ্রমিকের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক। দলনেতার নির্দেশে শীঘ্রই আলাউদ্দিন শেখের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। যাবেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও। সমস্ত রকম আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে আলাউদ্দিনের পরিবারকে। শুধু তা-ই নয়, জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোলরুম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া। ওই কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে সর্ব ক্ষণ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। শনিবারের সভা থেকে অভিষেক আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছেন, এ জন্য একটি হেল্পলাইনও চালু করা হতে চলেছে। ৭৪৩০০-০০০৩০ এবং ৯১৪৭৮৮৮৩৮৮ — ভিন্রাজ্যে কোনও সমস্যায় পড়লে এই দু’টি নম্বরে ফোন করে নিজেদের সমস্যার কথা জানালেই দ্রুত বাড়ি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে। পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদবাসীকে কোনও রকম প্ররোচনায় পা না দিতেও অনুরোধ করেছেন অভিষেক।
শুক্রবার থেকে অশান্তি চলছে বেলডাঙায়। এক পরিযায়ী শ্রমিককে ঝাড়খণ্ডে খুনের অভিযোগে শুক্রবার বেলডাঙায় বিক্ষোভ শুরু হয়। ১২ নম্বর (সাবেক ৩৪ নম্বর) জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। ভাঙা হয় পুলিশের গাড়ি। এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরাও আক্রান্ত হন। শুক্রবারের ডামাডোলের পর শনিবার সকাল থেকে ফের উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশো মানুষ। পরে লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত ৩০ জনকে।