Coronavirus

নিভৃতবাস ছাড়ার পর এল রিপোর্ট

ব্লক ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যায়, নেতাজিনগর পাড়ার ওই যুবক গত ৯ জুন মহারাষ্ট্র থেকে ফিরে এলাকার একটি স্কুলে নিভৃতাবাসে ছিলেন।

Advertisement

সন্দীপ পাল

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২০ ০৩:৩৪
Share:

প্রতীকী ছবি।

সরকারি নিভৃতাবাস থেকে ছেড়ে দেওয়ার পরে করোনা ধরা পড়ার ঘটনা ফের ঘটল।

Advertisement

দেবগ্রামের নেতাজিনগর এলাকার এক যুবক ও মোলান্দি এলাকার একটি দেড় বছরের শিশুর করোনা ধরা পড়ায় ওই দুই এলাকাকে ’কনটেনমেন্ট জ়োন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। কিন্তু কালীগঞ্জ ব্লকে এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠেছে, পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগে কেন পরিযায়ী শ্রমিকদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ১৪ দিনের মেয়াদ শেষে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি নিয়ম থাকলেও পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা ইস্তক সেই মেয়াদ বাড়ানো যায় কি না, সে ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।

ব্লক ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যায়, নেতাজিনগর পাড়ার ওই যুবক গত ৯ জুন মহারাষ্ট্র থেকে ফিরে এলাকার একটি স্কুলে নিভৃতাবাসে ছিলেন। গত ২০ জুন তাঁর লালারস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়, কিন্তু ২১ তারিখে তাঁকে ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২২ জুন রাতে তাঁর পজ়িটিভ রিপোর্ট আসে। এর পরেই তাঁকে কোভিড হাসপাতালে পাঠিয়ে তাঁর পরিবারের দুই সদস্যকে সরকারি নিভৃতাবাসে রাখা হয়েছে। তাঁর পরীক্ষা করতে এত দেরি কেন হল, কেনই বা রিপোর্ট আসার আগে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হল, সেই প্রশ্ন উঠছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের একটিই যুক্তি, ১৪ দিনের মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ায় তাঁকে ছাড়া হয়েছিল। অন্য দিকে, বড়চাঁদঘর পঞ্চায়েতের মোলান্দি গ্রামের একটি পরিবার গত ১৮ জুন দিল্লি থেকে ফিরে বাড়িতেই নিভৃতবাসে ছিল। ২০ জুন তাদের লালারস পরীক্ষা করা হয়, ২২ জুন রাতে দেড় বছরের একটি শিশুর রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। শিশুটিকে কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, সঙ্গে রয়েছেন তার ঠাকুমা। পরিবারের তিন সদস্যকে সরকারি নিভৃতাবাসে রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠেছে, দিল্লি থেকে আসা পরিবারকে নিভৃতবাস কেন্দ্রে না পাঠিয়ে কেন বাড়িতে থাকতে দেওয়া হল। তবে সেই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মেলেনি। নেতাজিনগরের যুবকের পরীক্ষায় দেরি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য, প্রতি দিন নির্দিষ্ট পরিমাণে লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়। ওই যুবক যে সময়ে ফিরেছেন, তখন পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই বাড়ি ফিরেছিলেন। পরপর তালিকা অনুযায়ী তাঁদের লালারস সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই কারণেই রিপোর্ট আসতে নিভৃতবাসের ১৪ দিনের মেয়াদ পেরিয়ে গিয়েছে। আর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার রিপোর্ট আসুক বা না আসুক, মেয়াদ পেরিয়ে গেলে সকলকেই ছেড়ে দেওয়ার কথা।

Advertisement

গত কয়েক দিনে কালীগঞ্জ ব্লকে করোনা ছড়ানোর যথেষ্ট ঈঙ্গিত মিলেছে। স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী এই বলকে এ পর্যন্ত মোট ১৪ জনের সংক্রমণ ধরা পরেছে। যদিও তার মধ্যে পাঁচ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কালীগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক তিমিরকান্তি ভদ্র মঙ্গলবার বলেন, “সরকারি নিভৃতবাসের মেয়াদ ফুরনোর আগে যাঁদের পরীক্ষার রিপোর্ট আসবে না, তাঁদের আরও দু’এক দিন কেন্দ্রে থেকে যেতে বলা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement