প্রতীকী ছবি।
লোকসভা ভোটে জেলার তফসিলি প্রধান এলাকায় ধাক্কা খেতে হয়েছিল। তাই পুজোর আগেই তৃণমূলের তরফে ‘তপসিলি সংলাপ’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। শাসক দলের এই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টার মধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের তোড়জোড় শুরু করছে বিজেপি। নভেম্বর মাসে অন্য জায়গার সঙ্গে জেলার দক্ষিণ প্রান্তেও ‘গৃহ সম্পর্ক’ অভিযান শুরু হতে চলেছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে।
গত বছরের লোকসভা ভোটেই নদিয়ার দক্ষিণপ্রান্তে কার্যত ধরাশায়ী হতে হয়েছিল রাজ্যের শাসক দলকে। রানাঘাট লোকসভা আসন হারানোর পাশাপাশি কৃষ্ণগঞ্জের মতো বিধানসভা হাতছাড়া হয় তাদের। জেলার তপসিলি এবং মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক উত্থান হয় বিজেপির। এ বারের করোনা আবহে পুরভোট হয়নি। তবে বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে এ বার নেমে পড়তে চাইছে সব দলই। গত লোকসভা ভোটে জেলার দক্ষিণে যে ভাবে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল, সেই ক্ষত মেরামত করে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ তাদের কাছে। পাশাপাশি আমপানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জায়গায় দলের কোন্দলও সামনে এসেছে নানা সময়ে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অগ্রগমন ধরে রাখাই এখন প্রধান কাজ পদ্ম শিবিরের কাছে। বিধানসভা ভোটের আগে এ বার মানুষের কাছে যাচ্ছে তারা।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, নিচুতলায় দলের নেতা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন। সেখানে মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা শুনবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের নানা কাজের প্রচার এবং রাজ্য সরকার ও রাজ্যের শাসক দলের সমালোচনা সম্বলিত লিফলেটও থাকবে তাঁদের কাছে। সেই লিফলেটও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।
পুজোর আগেই তৃণমূল তপশিলি অধ্যুষিত এলাকায় মানুষের মন পেতে ঝাঁপিয়েছিল। তপশিলি প্রধান এলাকায় রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার করেছেন তারা। এ ছাড়াও বিলি করা হয়েছে লিফলেট। জনসংযোগের কাজও সেরেছেন দলের নেতারা। জেলা তৃণমূলের অন্যতম কো অর্ডিনেটর রাজ্যসভার সাংসদ আবির বিশ্বাস বলেন, “মানুষ এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন। আমরা সব এলাকায় জনসংযোগের কাজ করেছি।”
তবে তৃণমূলের এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি। বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অশোক চক্রবর্তী বলেন, “তৃণমূল যতই চেষ্টা করুক, তাতে লাভ কিছু হবে না। ওদের দিন শেষ হয়ে এসেছে। মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য তৈরি।”
সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করেই এ বার পথে নামছে বিজেপি ও তৃণমূল, সেখানেই জোর দেওয়া হচ্ছে জনসংযোগে।