কে এন কলেজে ঝোলানো হয়েছিল এই ব্যানার। হইচই হওয়ায় শনিবার দুপুরে খুলে নেওয়া হয়।-নিজস্ব চিত্র
নির্বাচনী বিধির চালু হয়ে গিয়েছে, শুক্রবার থেকেই। তবে, শাসক দলের নেতা-কর্মীরা তাকে মান্যতা দেওয়ার সৌজন্য দেখাতে রাজি ছিলেন না, শনিবার সকালে বহরমপুরের কেএন কলেজের মূল ফটকের সামনেই ঝুলিয়ে দেওয়া তৃণমূলের ঢাউস ব্যানার সে কথাই বলছে। দলনেত্রী মমতার ছবি, সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করার আবেদন। ঘটনাচক্রে ওই কলেজের অধ্যক্ষ সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুক্রবারই বহরমপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কানে পৌঁছতে এ দিন দুপুরে অবশ্য তড়িঘড়ি নির্বাচনি প্রচারের ওই ব্যানারটি খুলে ফেলা হয়। নির্বিকার গলায় অধ্যক্ষাও জানান, কেউ না জেনেই হয়তো কাজটা করেছিল। যা শুনে বিরোধীরা বলছেন, ‘‘দলীয় প্রার্থীর মুখে এর বেশি আর কীই বা আশা করা যায়!’’
তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে জেলা কংগ্রেস। বিষয়টি যে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে সে আশ্বাসও দিয়েছে জেলা প্রশাসন, যারা এখন নির্বাচন কমিশনের আওতায়।
কংগ্রেসের এক জেলা নেতার কথায়, ‘‘কলেজ অধ্যক্ষ, তার উপর প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর কাছে আমরা ন্যায়-নীতি আশা করতেই পারি। কিন্তু তৃণমূলে যোগ দিলে যে সেগুলো বিসর্জন দিতে হয় এ দিন ফের তার প্রমাণ মিলল।’’ সুজাতা অবশ্য বলছেন, ‘‘যারা ব্যানার টাঙিয়েছে তারা হয়তো নির্বাচনী আচরণ বিধির বিষয়টাই জানে না। তবে, ওই ব্যানার খুলে নেওয়ার জন্য তাদের বলা হবে।’’ এখন প্রশ্ন, কে ওই নির্বাচনী প্রচারের ব্যানারটি ঝুলিয়েছিল? ব্যানারের নিচে গোটা অক্ষরে লেকা— টিএমসিপি। শাসক দলের ছাত্র সংগঠন কি নির্বাচন বিধির বিষয়ে জানে না? তৃণমূলের জেলা সবাপতি মান্নান হোসেন অবশ্য মনে করছেন, ‘‘এ কাজ বিরোধীদের। আমাদের প্রার্থীর মুখ পোড়াতে ওরাই কেউ এ কাজ করিয়েছে।’’
দলের পক্ষ থেকে কৃষ্ণনাথ কলেজের সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন বিদায়ী ছাত্রসংসদের সম্পাদক, তৃণমূল ছাত্রপরিষদের বহরমপুর টাউন সভাপতি বিপ্লব কুণ্ডু। তিনি অবশ্য মেনে নিচ্ছেন, ‘‘কলেজে ব্যানার টাঙানো যে নির্বাচনী বিধি-বিরুদ্ধ, তা আমাদের জানাই ছিল না।’’ তবে, এখানে বাধা শুধু নির্বাচনী নিয়মকানুন নয়। শিক্ষাঙ্গনে ভোটের প্রচারও আইনবিরুদ্ধ। জেলা কংগ্রেস এবং সিপিএম নেতাদের দাবি, এই সহজ নিয়মটুকু অন্তত শাসক দলের জানা উচিৎ। জেলা সিপিএম সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘এটুকুও ওঁরা (তৃণমূল প্রার্থী) জানেন না। এর বিরুদ্ধে যথার্থ ব্যাবস্থা নেওয়া উচিত নির্বাচন কমিশনের।’’ আর, জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র আশোক দাস বলছেন, ‘‘নিয়মের তোয়াক্কা না করাটাই টিএমসিপি-র নিয়ম। তাই নির্বাচনি বিধি যে তারা মানবে না এটাই স্বাভাবিক।’’
অতিরিক্ত জেলাশাসক (নির্বাচন) শ্যামলকুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘ঘটনাটি নজরে এসেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের আইন মেনেই যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেব।’’ বহরমপুরের মহকুমাশাসক দিব্যনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ব্যাপারটা জানতে পেরেই কৃষ্ণনাথ কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার।’’ তৃণমূলের স্থানীয় প্রার্থী নিজেই ওই কলেজের অধ্যক্ষ হওয়য়া তাঁর বিরুদ্ধে কি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান ধরিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘শুধু ওই কলেজেই নয়, এমন কাণ্ড জেলা জুড়েই করছে টিএমসিপি।’’ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, সে ব্যাপারেও খোঁজ নিচ্ছেন তাঁরা।