BDO Office

ডোমকল বিডিও অফিসে তৃণমূল নেতার ‘দাদাগিরি’! প্রথমে বিডিও, পরে পুলিশকেও মারতে যাওয়ার অভিযোগ পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

বৈঠকের একদম শেষের দিকে একাধিক রাস্তার দরপত্র, আবাস যোজনার টাকা ও অন্যান্য অনুমোদিত তহবিল সম্পর্কে বিডিও শঙ্খদীপ ঘোষের কাছে তথ্য জানতে চান পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান বিডিও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫
Share:

উত্তেজনা বিডিও অফিসে। — নিজস্ব চিত্র।

বিভিন্ন সরকারি দরপত্র ও আবাস যোজনার বরাদ্দ টাকা নিয়ে মতানৈক্যের জেরে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-কে হেনস্থার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের ডোমকল ব্লকে ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশকেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ডোমকল বিডিও অফিসে পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী কমিটির (পূর্ত)একটি বৈঠক ছিল। বৈঠকে সরকারি প্রকল্পের দ্রুত রূপায়ণ নিয়ে আলোচনা চলছিল। বৈঠকের একদম শেষের দিকে একাধিক রাস্তার দরপত্র, আবাস যোজনার টাকা ও অন্যান্য অনুমোদিত তহবিল সম্পর্কে বিডিও শঙ্খদীপ ঘোষের কাছে তথ্য জানতে চান পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান বিডিও। আলোচনা চলাকালীন নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে বিডিওকে ‘মারতে যান’ পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। ইতিমধ্যেই উত্তেজনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (আনন্দবাজার ডট কম তার সত্যতা যাচাই করেনি)।

এর পরে বিডিও চেম্বার ঘেরাও করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি বিডিওকে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয় বলেও অভিযোগ। খবর পৌঁছোয় ডোমকল থানায়। ঘটনাস্থলে ডোমকল থানার আধিকারিক পৌঁছোনোর পরেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বারবার উত্তেজিত অবস্থায় পুলিশের দিকেও তেড়ে যেতে দেখা যায় তৃণমূল নেতাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোলমালের কথা স্বীকার করে নেন পূর্ত-কর্মাধ্যক্ষ-সহ অভিযুক্ত তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে, প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি ডোমকলের বিডিও।

Advertisement

ডোমকলের অভিযুক্ত পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বলেন, “স্থায়ী সমিতির বৈঠক চলাকালীন আমাদের বিডিও-র কাছে আবাস ও বেশ কিছু প্রকল্পের দ্রুত রূপায়ণের জন্য অনুরোধ করা হয়। কোনও রকম জবাব না দিয়ে তিনি একটি ‘কটু’ মন্তব্য করেন। তিনি একজন সরকারি আধিকারিক। আমরাও জনপ্রতিনিধি। বিডিও যেন তাঁর সীমা অতিক্রম না করেন।” ডোমকলের বিডিও শঙ্খদীপ বলেন, “একটা অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি প্রশাসনিক। প্রশাসন এবং উচ্চতর আধিকারিকদেরও জানানো হয়েছে। যেমন নির্দেশ আসবে, সে রকম কাজ করা হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement