পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফের পরীক্ষার মুখে চিনের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফের এক বার পরীক্ষার মুখে পড়ল চিনের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সম্প্রতি চিনের কাছ থেকে এইচকিউ-৯বি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলি ব্যবহার করে, তার মধ্যে অন্যতম এটি। কিন্তু শনিবার থেকে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে, তাতে এটি কর্মক্ষমতা ফের পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
এই একই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানকেও বিক্রি করেছে চিন। গত বছরের মে মাসে সিঁদুর অভিযান এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময়েও চিনের তৈরি এই এইচকিউ-৯বি পরীক্ষার মুখে পড়েছিল। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সিঁদুর অভিযানের শেষ পর্বে আকাশের দখল প্রায় পুরোটাই চলে এসেছিল ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে। এ বার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষের সময়ে আবার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আলোচনা শুরু হয়েছে চিনের এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে।
এইচকিউ-৯বি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি তৈরি করেছে চিনের এরোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন। এটি আসলে রাশিয়ার এস-৩০০পিএমইউ এবং আমেরিকার প্যাট্রিয়ট পিএসি-২ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনুকরণে তৈরি এক চিনা সংস্করণ। ২০০৬ সালে এটি প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার পরে বিগত প্রায় এক দশক ধরে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্লা ২৬০ কিলোমিটার। প্রায় ৫০ কিলোমিটার উঁচুতে গিয়ে কোনও ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে এটি। আরও কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, এইচকিউ-৯বি একসঙ্গে ৬-৮টি নিশানায় আঘাত হানতে পারে এবং একবারে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্রকে চিহ্নিত করতে পারে।
তবে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেখা গিয়েছে, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে ইরানে। রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় ফের এক বার পরীক্ষার মুখে পড়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যদিও ইরান শুধুমাত্র এই এইচকিউ-৯বি-র উপরেই নির্ভরশীল নয়। রাশিয়ার তৈরি এস-৩০০পিএমইউ-২ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে তাদের হাতে। পাশাপাশি বাভার-৩৭৩-সহ কিছু নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে তেহরানের। চিনের কাছ থেকে কেনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান কোথায় স্থাপন করেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে যে সকল এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে, সেগুলি ওই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্লার মধ্যে ছিল কি না, তা-ও অস্পষ্ট।