তিথি বিশ্বাস। — নিজস্ব চিত্র।
এক বাইক আরোহী রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে দুষ্কৃতীরা পথ আটকে ধারালো অস্ত্রের কোপ মেরে ছিনতাই করতে গিয়েছিল। তবে কোনও মতে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন আরোহী। পরের দিন পুলিশে অভিযোগ জানান ওই ব্যক্তি। ঘটনার তদন্তে নেমে এক যুবককে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, অনলাইন গেম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুবককে অপরাধমূলক কাজের জন্য উস্কানি দিতেন এক তরুণী। প্রতিশ্রুতি ছিল, দু’জনে একসঙ্গে বিলাসবহুল জীবন কাটানোর। সম্প্রতি নদিয়া থেকে ধরা পড়েছেন সেই তরুণী। ধৃতের নাম তিথি বিশ্বাস (২০)।
গত ২ অক্টোবর পুরুলিয়ার সিমুলিয়া-চাকরা বাইপাস দিয়ে বেকুড়ির উদ্দেশে বাইকে করে যাচ্ছিলেন হাতিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বাপি সরদার ওরফে টোটন। রাত ১১টা নাগাদ সোনাইজুড়ি আন্ডারপাসের কাছে কয়েক জন দুস্কৃতী তাঁর পথ আটকে গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় কোনও মতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বাপি। তাঁর বাইক নিয়ে চম্পট দেয় ছিনতাইকারীরাও। পরের দিন টামনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জখম ব্যক্তি।
গত ৩১ ডিসেম্বর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে মূল অভিযুক্ত নির্মল গোড়াইন (২১)। পুরুলিয়ার খোজড়া গ্রামের বাসিন্দার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ছিনতাই করা মোটরসাইকেল ও অপরাধে ব্যবহৃত বাইক। পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্মল জানান, পরিচয় গোপন করতে বাইকের আসল নম্বর প্লেট খুলে ফেলা হয়েছিল। তার পরেই ধৃতের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে তাঁকে অপরাধজগতে নিয়ে আসার নেপথ্যে রয়েছেন এক তরুণী। যাঁর সঙ্গে নির্মলের আলাপ একটি জনপ্রিয় অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে। ২০২৩ সালে অনলাইন গেমের সূত্র ধরেই তাঁর আলাপ তিথির সঙ্গে। তার পরে বাড়ে ঘনিষ্ঠতা। নির্মলের দাবি, একসঙ্গে বিলাসবহুল জীবনযাপন করার স্বপ্ন দেখিয়ে অপরাধমূলক কাজে জড়ানোর জন্য নির্মলকে বারবার উস্কানি দিয়েছিলেন তিথিই।
নির্মল গোড়াইন। — নিজস্ব চিত্র।
পুলিশ সূত্রে খবর, অপরাধের আগের রাত গত ১ অক্টোবর পুরুলিয়ায় এসেছিলেন তিথি। সমগ্র ঘটনার তদারকি করেছিলেন নিজে। কাজ শেষ হতে দু’জনেই ছিনতাই করা বাইক নিয়ে এলাকা থেকে চম্পট দেন। গত ৬ জানুয়ারি নদিয়া জেলার ধানতলা থানা এলাকার আড়ংঘাটা থেকে অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতকে আদালতে হাজির করানো হলে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
দু’জনের অপরাধমূলক কাজের নেপথ্যে আরও কেউ বা কারা জড়িত কি না বা কোনও চক্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।