Coronavirus

আইসোলেশন ওয়ার্ড বাড়ল

শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে প্রথমে ৬৫ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছিল। গ্লোকালকে কোভিড হাসপাতাল হিসাবে তৈরি করার পর জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২০ ০৩:৪৬
Share:

প্রতীকী ছবি।

ক্রমশ খারাপ হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি। দেশে বেড়েই চলেছে রোগীর সংখ্যা। মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, এই আশঙ্কায় জেলার আরও ৯টি কোয়রান্টিন সেন্টারকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে পরিণত করল স্বাস্থ্য দফতর।

Advertisement

এ নিয়ে ১৯ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বিএমওএইচদের চিঠি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। সেই মতো চাকদহের চৌগাছা বিপিএইচসির নতুন ভবন, নগরউখড়া পুলিশ স্টেশন ও ব্যারাক, কল্যাণী বাসস্ট্যান্ড, কালীগঞ্জের পানিঘাটা কর্মতীর্থ, বেথুয়াডহরি গ্রামীণ হাসপাতালের নিউ অ্যানেক্স বিল্ডিং, তাহেরপুর আমন্ত্রণ লজ, হাঁসখালি কর্মতীর্থ, তেহট্টের হাঁসপুকুরিয়া কর্মতীর্থ এবং করিমপুর কর্মতীর্থকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে পরিণত করা হয়েছে। জেলার সমস্ত আইসোলেশন সেন্টার ও কোয়রান্টিন সেন্টারের দায়িত্বে আছেন জেলা যক্ষ্মা আধিকারিক শুভাশিস চন্দ। তিনি বলেন, “আমরা যে কোনও রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি হচ্ছি। নতুন আইসোলেশন সেন্টারগুলিও তৈরি হয়ে আছে। প্রয়োজনে যে কোনও মুহূর্তে আমরা সেগুলি ব্যবহার করতে পারব।”

শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে প্রথমে ৬৫ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছিল। গ্লোকালকে কোভিড হাসপাতাল হিসাবে তৈরি করার পর জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেটাকে আবার শুধু খোলা হল না, শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৫ থেকে ৭৭ করা হয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দাবি।

Advertisement

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ৯টি আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ২৫০টির মতো শয্যা পাতা হয়েছে। জেলা, মহকুমা ও স্টেট জেনারেল হাসপাতালগুলিতে যে বড় আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলি চালু আছে, সেগুলি ভর্তি হয়ে গেলে তবেই এই আইসোলশন ওয়ার্ডগুলিতে সন্দেহভাজনদের ভর্তি করা হবে। কিন্তু আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করতে গেলে সেখানে তো পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। যেমন গলা থেকে লালা বের করার জন্য অন্তত একটি সাকার মেশিন, দুটো শয্যা পিছু একটা করে অক্সিজেন সিলিন্ডার, থার্মোমিটার, চিকিৎসক, নার্স-সহ অন্যান্য কর্মীর প্রয়োজন। কিন্তু সে সবের কোনও ব্যবস্থাই এখনও ওই ৯টি আইসোলেশন সেন্টারে হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

জেলার স্বাস্থ্য কর্তারা জানান, এই আইসোলেশন সেন্টারগুলিতে সাকার মেশিন বা অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকবে না। এটা একেবারেই প্রাথমিক স্তরের রোগীদের জন্য। যাঁদের সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি হবে বা একেবারেই প্রাথমিক লক্ষণ থাকবে, তাঁদেরই রাখা হবে এখানে। শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলেই তাঁকে সারি বা অন্য বড় হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

নতুন আইসোলেশন সেন্টারগুলিতে প্রতি দিন একজন জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার দু’বেলা রাউন্ড দিয়ে যাবেন। তিন শিফটে তিনজন নার্স সেখানে কর্তব্যরত অবস্থায় থাকবেন। সেই সঙ্গে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী থাকবেন। এঁরা সকলেই আসবেন ব্লক থেকে। বাকি কর্মী দেওয়া হবে বিডিও-র দফতর থেকে। সেই সঙ্গে আইসোলেশন ওয়ার্ডের রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করবেন বিএমওইচ ও বিডিও। এ জন্য কোথাও বিডিওকে আবার কোথাও বিএমওএইচকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, খাবার ও জল সরবরাহকারীদের বরাত দেওয়া হয়ে গিয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশের মতে, বিভিন্ন রাজ্য ও জেলা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলায় ঢুকতে শুরু করেছেন। তাঁদের কোয়রান্টিন সেন্টারে রেখে প্রয়োজনে লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও একটা আশঙ্কা যে থেকেই যাচ্ছে, তা অস্বীকার করতে পারছেন না স্বাস্থ্য কর্তারা। আর সেই কারণে নতুন করে জেলার কোয়রান্টিন সেন্টারগুলিতে সন্দেহভাজনদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

জেলার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এই মুহূর্তে যে সব সন্দেহভাজনদের বাড়িতে আলাদা ভাবে থাকার সুযোগ নেই, তাঁদেরই কোয়রান্টিন সেন্টারে রাখা হচ্ছে। এই মুহূর্তে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয় তারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement