coronavirus

মিডডের পাতে ডাল, হাতে স্যনিটাইজ়ার

চলতি বছরে লকডাউনের সময় থেকেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যালয়গুলি। স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায় মিডডের পাত। সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে  প্রত্যেক পড়ুয়াকে মার্চ মাসে অবশ্য  দু’কেজি করে চাল এবং দু’কেজি আলু দেওয়া হয়।

Advertisement

বিদ্যুৎ মৈত্র

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২০ ০০:৩৩
Share:

ফাইল চিত্র

স্কুল বন্ধ, লকডাউনের আবহে মিডডে মিলের পাত না পড়লেও চাল-আলুর সংস্থান হয়েছিল। এ বার সেই তালিকায় নয়া সংযোজন ডাল এবং স্যানিটাইজ়ার।

Advertisement

স্কুলের তালা খুলছে না জুলাই মাসেও। ঘরের চৌহদ্দিতেই তাদের আপাত-পঠন। তবু বাড়ির অন্দরেও যাতে জীবানুমুক্ত থাকতে পারে সে জন্য প্রাথমিক, উচ্চ-প্রাথমিক, শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র এবং মাদ্রাসা বোর্ডের প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়াদের অভিভাকদের হাতে চলতি মাসের গোড়ায় তুলে দেওয়া হবে স্যানিটাইজ়ার।

মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় সাড়ে সাত হাজার স্কুলেও এর ব্যিক্রম হচ্ছে না। শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২লক্ষ ৩২ হাজার ৯২৭ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে জুলাই মাসে মিডডে মিলে ডাল ও স্যানিটাইজার দেওয়া হবে। সেই খাতে ইতিমধ্যেই ৫,৫৪,৮১৭১৫ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনকে। শুক্রবার, জেলার সব মহকুমা এবং ব্লক প্রশাসনের কাছে জেলাশাসকের নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে—চলতি মাসের মধ্যেই বিদ্যালয়গুলির মিডডে মিল অ্যকাউন্টে ওই টাকা যেন যথাযথ ভাবে পৌঁছে যায়। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দু’কেজি আলুর জন্য ৪৪ টাকা, আড়াইশো গ্রাম ডালের জন্য ২৩ টাকা এবং ৫০ মিলি লিটার স্যানিটাইজ়ারের জন্য ২২ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় সরকার নির্ধারিত এই মূল্যে টাকা পাওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মুসুর ডাল ও স্যানিটাইজ়ার কিনতে হবে। পড়ুয়ার সংখ্যা বিচার করেই এই টাকা প্রত্যেক ব্লক ও মহকুমায় পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। সেই হিসাবে সব চেয়ে বেশি, তিন কোটি সাতাশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে শমসেরগঞ্জ ব্লকের বিদ্যালয়গুলির জন্য।

Advertisement

চলতি বছরে লকডাউনের সময় থেকেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যালয়গুলি। স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায় মিডডের পাত। সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে প্রত্যেক পড়ুয়াকে মার্চ মাসে অবশ্য দু’কেজি করে চাল এবং দু’কেজি আলু দেওয়া হয়। মে মাসে গরমের ছুটি থাকায় এপ্রিল মাসে প্রত্যেক পড়ুয়াকে তিন কেজি করে চাল এবং তিন কেজি আলু দেওয়া হয়েছিল। এ বার পাতে পড়ছে ডাল। সঙ্গে সাফ-সুতরো থাকার স্যানিটাইজ়ার। অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) সিরাজ দানেশ্বর বলেন, “জুলাই মাসের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ডাল আর স্যানিটাইজ়ার। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বরাদ্দ মূল্যেই ডাল ও স্যানিটাইজ়ার কিনে ইতিমধ্যে সেই নির্দেশ বিদ্যালয়গুলোতেও পৌছে গিয়েছে। ব্লক অফিস অথবা পুরসভা থেকে মিডডে মিলের চাল বিদ্যালয়গুলোয় পৌছে দেওয়া হয়। আলু অবশ্য নিজের মতো করে কিনে নিত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বার মুসুর ডাল ও স্যানিটাইজ়ারও একই ভাবে নিজেরাই কিনবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সরকারি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্কুলগুলি। বহরমপুর সেবামিলনী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অদিতি ভট্টাচার্য বলেন, “চাল, ডাল জোগার হলেও অনেক পড়ুয়াই টাকার অভাবে স্যানিটাইজ়ার কিনতে পারেনি। এটা খুব প্রয়োজন ছিল।” খিদিরপুর কলোনি নেতাজি হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক জয়দীপ দত্ত বলেন, “স্যানিটাইজ়ারের পরিমান একশো মিলি লিটার হলে ভাল হত। তবে যা হচ্ছে তা-ও প্রশংসনীয়।” তবে, নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সম্পাদক দুলাল দত্ত মনে করেন, “যে মূল্য ঠিক করা হয়েছে তা শিশুসুলভ। বাজারে একটি স্যানিটাইজ়ারের দাম কমপক্ষে পঞ্চাশ টাকা। সেটা ভাবা উচিত ছিল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement