গঙ্গা পারে বেআইনি মাটি কাটায় আটক যন্ত্রপাতি। নবদ্বীপে। নিজস্ব চিত্র।
গঙ্গার চর থেকে বেআইনি ভাবে বালি ও মাটি কাটার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার বিকেলে নদিয়া এবং পূর্ব-বর্ধমানের সীমানায় অবস্থিত নবদ্বীপের মহিশুরা পঞ্চায়েতের কালীনগরে গঙ্গার চর থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নবদ্বীপের ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকেরা। সঙ্গে ছিল নবদ্বীপ থানার পুলিশ। সেখান থেকে দু’টি মাটি কাটার যন্ত্র আটক করা হলেও অভিযুক্তদের কাউকে ধরা যায়নি। পুলিশ দেখে তারা নৌকা করে বর্ধমানের দিকে পালিয়ে যায় বলে জানাচ্ছেন নবদ্বীপ ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারিক। ঘটনায় অভিযোগের আঙুল একাধিক ইটভাটা মালিকের দিকে।
নবদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় নদী থেকে মাটি বা বালি পাচার নতুন কিছু নয়। শীতের পরে এই শুখা মরসুমে মাটি কাটার ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। মাঝে মাঝেই ভূমি দফতরের পক্ষ থেকে নিয়মমাফিক অভিযানও চালানো হয়। কিছুদিন চুপচাপ থাকার পরে ফের অন্য কোনও এলাকায় শুরু হয় মাটি কাটা। মূলত, গ্রামীণ নবদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গঙ্গার তীর বা চরের জমি থেকেই চলে মাটি পাচার। বৃহস্পতিবার যেখানে অভিযানচালানো হয়, সেই অঞ্চলটি এই তালিকায় নতুন সংযোজন।
নবদ্বীপের একেবারে দক্ষিণ দিকের শেষ সীমানায় পূর্ব-বর্ধমান লাগোয়া দুর্গম কালীনগরকে মাটি কাটার জন্য পরিকল্পনা করেই বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছেন ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকেরা। ওই অঞ্চলে পাশাপাশি নদিয়ার কালীনগর, পূর্ব-বর্ধমানের জ্বালুইডাঙা, কাঞ্চনতলা বা নদীর অন্য দিকে কিশোরীগঞ্জ প্রভৃতি জায়গায় যাতায়াত করা রীতিমতো কষ্টসাধ্য। সংলগ্ন এলাকায় মানুষের বসবাসও অল্প। প্রায় জনবিরল ওই এলাকায় দিনসাতেক ধরে নদীর চর থেকে যন্ত্রের সাহায্যে বালি, মাটি কাটা চলছিল। এলাকার বাসিন্দা চম্পা হালদার, সুজয় হালদার জানিয়েছেন, রাতের বেলায় মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে পাচার করা হচ্ছিল।
নবদ্বীপ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকার নবীন গৌতম এই প্রসঙ্গে বলেন, “দুষ্কৃতীরা ওই এলাকা অনেক হিসেব করে বেছেছে। প্রায় অগম্য ওই এলাকায় যাওয়ার জন্য নদিয়ায় ভাল রাস্তা নেই। ঘুরে বর্ধমানের কাঞ্চনতলা দিয়ে যেতে হয়। মহিশুরা দিয়ে একটি বিকল্প পথ থাকলেও সেটি যাতায়াতের অযোগ্য। নদীর চরে সামান্য দূরত্বে দু’টি জেলা হওয়ায় দূর থেকে লোকজন দেখলেই দুষ্কৃতীরা একটু সরে বর্ধমানে গিয়ে গা ঢাকা দেয়।” তিনি জানান, ওই দিন দফতরের চেনা গাড়ির বদলে অন্য গাড়ি নিয়ে কাঞ্চনতলা দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’টি যন্ত্র আটক করা হলেও কাউকে ধরতে পারা যায়নি।
ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকদের দাবি, বেশ কিছু দিন ধরে লাগাতার নজরদারি এবং অভিযানের কারণে দুষ্কৃতীরা মায়াপুর, নবদ্বীপে গৌরাঙ্গ সেতু সংলগ্ন অঞ্চল থেকে পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাটি কাটছে। নদিয়ার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নৃপেন্দ্র সিংহ বলেন, “বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ব্লক এবং মহকুমা আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দু’টি নাম আমরা পেয়েছি। তাঁদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। আরও কিছু তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ হলেই কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।”
কেন বারবার বেআইনি মাটি পাচারের অভিযোগ উঠছে? জবাবে অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন “নদিয়া জুড়ে নিয়মিত নজরদারি এবং অভিযান শুরু হয়েছে। মাটি পাচার রুখতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে