এতদিন অভিযোগ আসত বিরোধী দলগুলি থেকে। এবার প্রকাশ্য সভায় একে অন্যের বিরুদ্ধে সরাসরি তোলাবাজির অভিযোগ তুলল তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী। আর তার জেরে জোর কাজিয়া শুরু হয়েছে তৃণমূলে।
শিল্প শহর ফরাক্কায় তোলাবাজির অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু তোলাবাজি নিয়ে শাসক দলের এই প্রকাশ্য কোন্দল রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আমজনতার মধ্যেও।
জেলায় দলকে শক্তিশালী করতে যখন দলনেত্রীর ঘোষণামত বুথস্তরে ১৮ অক্টোবরের সভা নিয়ে জেলা জুড়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল। তারই মধ্যে এমন বিতর্কে অস্বস্তি বাড়িয়েছে শাসক দলে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বরে ফরাক্কার বেনিয়াগ্রামে কর্মী সভা ডেকে ব্লকের পর্যবেক্ষক পদ থেকে মহম্মদ মোস্তফাকে অপসারণের দাবি তুলেছিলেন দলেরই ব্লক কমিটির কার্যকরী সভাপতি মহম্মদ ইলিয়াস সেখ ও দলের জেলার সাধারণ সম্পাদক আনসার আলি। তখনই তোলাবাজির বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যেই সরব হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন নেতা। আক্রমণের লক্ষ্য ছিলেন মহম্মদ মোস্তাফা।
রবিবার তারই পাল্টা ফরাক্কার বল্লালপুরে প্রকাশ্য সভা করলেন ব্লকের দলীয় পর্যবেক্ষক মহম্মদ মোস্তাফা। এই সভা থেকে মোস্তফা তৃণমূলের ফরাক্কা ব্লক সভাপতি মহম্মদ বদরুদ্দেজার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ আনলেন। একই সঙ্গে মহম্মদ ইলিয়াস-সহ তাঁর গোষ্ঠীর নেতাদেরও তিনি এক
হাত নেন।
তিনি বলেন, “ফরাক্কায় আইটিআই কলেজ ও কিষান মান্ডির নির্মাণ থেকে ৭ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করেছেন ওই গোষ্ঠীর নেতারা।’’ তাঁর আরও দাবি, বল্লালপুরে লরি থেকে যে তোলা আদায় হয়, তার মোটা অঙ্কের ভাগ নেন দলের ফরাক্কা ব্লকের সভাপতি।
তাঁর অভিয়োগ, নিজেরা তোলাবাজি করে তাঁর বিরুদ্ধেই তোলাবাজির মিথ্যে অভিযোগ তুলে দলীয় কর্মীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সোমবার নিজের বাগানবাড়িতে দলের কর্মীদের নিয়ে ফের একটি সভা ডেকেছেন মোস্তাফা।
এক সময়ের ফরাক্কার স্থায়ী বাসিন্দা মহম্মদ মোস্তফা বর্তামানে কলকাতার বাসিন্দা। গত ২০ বছর ধরে ফরাক্কায় বিধানসভা আসনটি কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। এবারে সেই আসনে মোস্তফাকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তিনি অবশ্য ভোট বৈতরণী পার হতে পারেননি। মোস্তফা তাঁর হারের জন্য দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে ফরাক্কার কয়েকজন নেতার অন্তর্ঘাতকেই দায়ী করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ পর্যন্ত ফরাক্কার কোনও নেতার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়নি দল।
তার পর থেকেই বারবার তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে মাথা চাড়া দিয়েছে ফরাক্কায়। কিন্তু এ ভাবে পরস্পরের বিরুদ্ধে সভা ডেকে দলেরই নেতাদের একে অন্যের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগের ঘটনা প্রকাশ্যে কখনও ঘটেছে বলে মনে করতে পারছেন না দলের প্রবীণ নেতারাও।
মহম্মদ বদরুদ্দোজা অবশ্য দলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা স্বীকারই করে নিয়েছেন। তিনি জানান, সমস্ত ঘটনা জেলা সভাপতি মান্নান হোসেনকে জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, মান্নান হোসেন তাঁকে মোস্তফাদের সভায় যেতে বারণ করেছেন। আমাকে ইলিয়াস এবং আনসারের পাশে থেকেই দল চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘বল্লালপুরে মোস্তফার সভা অবৈধ, তাই সে সভায় যাই নি।’’
ব্লক সভাপতি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। ফরাক্কার মানুষ বিশ্বাস করবে না।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি মান্নান হোসেন অবশ্য বলছেন, “আমি ফরাক্কার ঘটনা সব শুনেছি। যথাসময়ে এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে দল। কারওর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগের প্রমাণ মিললে তাঁকে দলে রাখা হবে না। সে যেই হন না কেন।”