Higher Secondary Exam 2026

চাপ নিয়েই শুরু ‌উচ্চ মাধ্যমিক

পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতি এ ক্ষেত্রে পার্শ্বশিক্ষক বা আংশিক সময়ের শিক্ষকদের কাজে লাগানোর পক্ষপাতী।

দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় 

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক সঙ্গে তিনটি পাঠক্রমের পরীক্ষা নিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক। প্রতিটি কেন্দ্রে একই সময়ে চলবে চতুর্থ সিমেস্টার, তৃতীয় সিমেস্টারের ‘সাপ্লিমেন্টারি’ পরীক্ষা এবং পুরনো পাঠক্রমের পরীক্ষা। তার জন্য সময় আলাদা, প্রশ্নপত্রও পৃথক রঙে ছাপানো হয়েছে। একই সঙ্গে একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষাও চলবে।

এর ফলে প্রায় গোটা দিন ধরে পরীক্ষা চলবে। সে ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হল, এত শিক্ষক মিলবে কোথায়? এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ। তার উপর আদালতের নির্দেশে এক সঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় রাজ্যের অধিকাংশ সরকার-নিয়ন্ত্রিত স্কুল পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে। এই পরিস্থিতিতে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনে প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকদের কাজে লাগানো হবে।

এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি নয় প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, এসআইআরের কাজে প্রাথমিক শিক্ষকদের একটা বড় অংশ বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হয়ে যাওয়ায় স্কুলগুলি এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এক জন করে শিক্ষকের উপর নির্ভর করে চলছে। তার জেরে পঠনপাঠন ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে। এ বার যদি উচ্চ মাধ্যমিকেও প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে টানাটানি হয়, তা হলে প্রাথমিক স্কুলগুলি একেবারেই লাটে উঠবে।

বাম প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ-র নদিয়া জেলা সম্পাদক অর্চনা দাস বলেন, “অধিকাংশ প্রাথমিক স্কুলেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। ছেলেমেয়েদের বুনিয়াদি লেখাপড়া যদি ঠিক ভাবে না হয় তা হলে উচ্চশিক্ষার ভিত তৈরি হবে কী করে? অথচ যে কোনও কাজে সকলের আগে প্রাথমিক শিক্ষকদের ডাক পড়ে। আমরা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানিয়েছি, যাতে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগনা করা হয়।”

পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতি এ ক্ষেত্রে পার্শ্বশিক্ষক বা আংশিক সময়ের শিক্ষকদের কাজে লাগানোর পক্ষপাতী। সংগঠনের নদিয়া জেলা কমিটির সভাপতি কিংশুক চক্রবর্তী বলেন, “আংশিক সময়ের শিক্ষকেরা সব কাজই করছেন, অথচ তাঁদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে দূরে রাখা হচ্ছে কেন? তাঁরা তো যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন। নির্বাচন কমিশন তাঁদের কাজে লাগাচ্ছে। অথচ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ কেন তাঁদের নিয়োগ করছে না কেন? বিষয়টা বিবেচনা করা দরকার। এমনিতেই সমস্ত স্কুলে শিক্ষক অপ্রতুল। সমস্যা মেটাতে প্রাথমিক স্কুল থেকে শিক্ষক নিয়ে আসা ঠিক নয় বলেইআমরা মনে করি।”

যদিও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নদিয়া দক্ষিণের প্রতিনিধি দিলীপ সিংহের আশ্বাস, এই জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক সামলানোর জন্য প্রাথমিক শিক্ষকদের টানাটানি করার দরকার পড়বে না। তিনি বলেন, “সংসদ এ বার প্রয়োজন হলে প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চ মাধ্যমিকের কাজে নিয়োগ করার কথা বলেছে। কিন্তু আমাদের জেলায় যা পরিস্থিতি, তাতে প্রাথমিক শিক্ষকদের দরকার পড়বে না বলেই এখনও পর্যন্ত খবর। তবে শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াচ্ছে, সেটা পরীক্ষা শুরু হলেই বোঝা যাবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন