সেই কোয়রান্টিন কেন্দ্র। নিজস্ব চিত্র
কোয়রান্টিন কেন্দ্র থেকেই বাইরে বেরিয়ে এসে কিছু পরিযায়ী শ্রমিক অবাধে রাস্তায় ঘুরছেন বলে অভিযোগ উঠল হরিহরপাড়া ও নওদার বিভিন্ন জায়গায়। এই পরিযায়ী শ্রমিকরা ৩১ মে ও ১ জুন জেলায় ফিরেছেন বাসে করে। তার পরে তাঁদের স্থানীয় স্কুলভবনে ১৪ দিন কোয়রান্টিনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু হরিহরপাড়ার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, ‘‘খবর পেয়েছি, অনেক শ্রমিকই স্কুল ভবনের কোয়রান্টিন কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে অবাধে ঘুরছেন। সংক্রমণ সম্পর্কে এই অসচেতনতা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা দেখছি, কী করে ওই শ্রমিকদের আবার কোয়রান্টিনে ফেরত পাঠানো যায়।’’ পরিযায়ী শ্রমিকদের গ্রামের স্কুল ভবনে কোয়রান্টিনে রাখার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উদ্যোগী হয়েছিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান নিজেও। সেই কোয়রান্টিন থেকে কিছু শ্রমিকের বেরিয়ে আসার খবর শুনে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমরা তো কাউকে জোর করে আটকে রাখতে পারি না। এলাকার মানুষ ও তাঁদের নিজেদের পরিবারের কথা ভেবেই আমরা ওই শ্রমিকদের কোয়রান্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু অনেকে সেখানে থাকতে চাইছেন না। কিন্তু আমরা তাঁেদর বলছি, যদি বাড়িতে থাকেন, হোম কোয়রান্টিনে থাকুন। বাইরে বেরোবেন না।’’
হরিহরপাড়ার আব্দলপুর, নওদার শ্যামনগর সহ বেশ কিছু জায়গায় পরিযায়ী শ্রমিকদের কোয়রান্টিন কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে। এই কোয়রান্টিন কেন্দ্রগুলোতে শ্রমিকদের খাবারের বন্দোবস্ত করেন তাঁদের পরিবারের লোকেরাই। কোথাও আবার তাদের খাবারের বন্দোবস্ত করেন গ্রামের বাসিন্দারাই। কোনও কোনও জায়গায় রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরাও খাবারের বন্দোবস্ত করেন।
৩১ মে মুম্বই থেকে গ্রামে ফেরেন তিন মহিলা, দুই শিশু সহ মোট আট জন। তার পরের দিন কেরল থেকে গ্রামে ফেরেন ২৭ জন পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের প্রত্যেককেই স্কুল বাড়িতে রাখার বন্দোবস্ত করেন গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামের বাসিন্দারাই তাদের দু'বেলা খাবারের বন্দোবস্ত করছিলেন। তাছাড়া তাদের পরিবারের লোকেরাও খাবার পৌঁছে দিচ্ছিলেন স্কুল বাড়িতে। দু-এক দিন যেতে না যেতেই অধিকাংশ শ্রমিক স্কুল বাড়ি থেকে ঘরে ফিরে যান। শনিবার স্কুল বাড়িতে রয়েছেন কেরল থেকে আসা মাত্র একজন শ্রমিক এবং মহারাষ্ট্র থেকে আসা দুই পরিবারের মোট ছয় জন।
তবে ঘরে ফেরা শ্রমিকেরা ঘরে ফিরেই বাড়িতে নিভৃতবাস তো দুর অস্ত বাড়ির বাইরে বেরিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করছেন বলেও স্থানীয় মানুষজনের দাবি। অভিযোগ, পাড়ার মোড়ে আড্ডাও জমাচ্ছেন, অনেকেই আবার হরিহরপাড়া বাজারেও যাচ্ছেন কেনাকাটা করতে। আর এতেই আতঙ্ক বেড়েছে আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দাদের। একই অবস্থা নওদার বিভিন্ন স্কুল বাড়িতে গ্রামবাসীদের খোলা কোয়রান্টিন সেন্টারগুলিতে। শ্যামনগর, টুঙ্গি, সহ ব্লকের ১১ টি কোয়রান্টিন সেন্টারে রাখা অধিকাংশ শ্রমিকই দু-চার দিন স্কুল বাড়িতে না থেকেই গ্রামে ফিরেছেন।
আব্দুলপুরের বাসিন্দা তানজিলা বিবি বলেন, ‘‘আমরা খুব আতঙ্কে আছি। পরিযায়ী শ্রমিকদের উচিত নিয়ম মেনে চলা।’’ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন বলেন, ‘‘সংক্রমণ এড়াতে কোয়রান্টিন কেন্দ্রে ১৪ দিন কাটাতেই হবে। যদি উপসর্গ না থাকে, তা হলেও ১৪ দিনই কোয়রান্টিনে থাকা উচিত। যাঁরা তা শুনছেন না, তাঁরা তাঁদের পরিবারকেই বিপন্ন করছেন। সচেতন হোন।’’