Nanda Saha

হাতি তো এখনও মরেনি, হাসছেন নন্দ

মাইনাস পয়েন্ট, কারণ গত পাঁচ বছর এই কেন্দ্রের মানুষ কার্যত বিধায়ককে পায়নি।

দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় 

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৯:০৯
Share:

খোশমেজাজে নন্দ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে। নিজস্ব চিত্র ।

তিনি পাঁচ বারের বিধায়ক। শুধু নদিয়া নয়, কলকাতা তথা গোটা রাজ্যের তৃণমূল পরিবার তাঁকে নামে চেনে। নিজের গাড়ির সামনে চালকের আসনের পাশে দলনেত্রীর ছবি বসিয়ে ঘুরে তিনি নিজেই এক গল্পের চরিত্র হয়ে উঠেছেন।

তিনি নবদ্বীপের পুণ্ডরীকাক্ষ ওরফে নন্দ সাহা।

তবে ষষ্ঠ বারের নির্বাচনী যুদ্ধ জয়ের পথে নন্দের মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর স্থায়ী অসুস্থতা। যদিও তা সত্ত্বেও তৃণমূল নেত্রী এ বারও তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছেন। সেটা যে শুধু স্নেহের খাতিরেই তা নয়, তৃণমূলের কোন্দল জর্জরিত সংসারে কৌশল হিসেবেও বটে। কারণ এখনও ‘নন্দ’ এমন একটা নাম, যা নিয়ে কোনও তরফেই বিশেষ বাগড়া দেওয়া সম্ভব নয়।

ভোট হওয়ার আগে থেকেই বিজেপি দাবি করছে, তারা এ বার নবদ্বীপ আসনটি জিতেই গিয়েছে। জনসভায় দাঁড়িয়ে তাদের প্রার্থী বলেছেন, তাঁরা বরং এক কদম এগিয়ে পুরসভার ভোট নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। কিন্তু তৃণমূলের ভোট বিশ্লেষকেরা পাল্টা বলছেন— ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়!’ তাঁদের মতে, নবদ্বীপ বিধানসভা আসনে এ বার প্লাস পয়েন্ট এবং মাইনাস পয়েন্ট— দুটোই নন্দ।

মাইনাস পয়েন্ট, কারণ গত পাঁচ বছর এই কেন্দ্রের মানুষ কার্যত বিধায়ককে পায়নি। সেই শূন্যতা ভরাট করতে গিয়ে শহরে‌র অন্য এক নেতা উল্টে মানুষের কাছে অপ্রিয় হয়েছেন এবং দলকে অপ্রিয় করেছেন। সেই দায়ও বইতে হচ্ছে নন্দকেই। আর প্লাস পয়েন্ট হল— তিনি নন্দ সাহা। অন্তত গত সিকি শতাব্দী ধরে তিনি নবদ্বীপ তথা নদিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এখন, ভোট মিটে যাওয়ার পরে, নবদ্বীপের হাটে-বাজারে, চায়ের দোকানে কিংবা ঘরোয়া আড্ডায় কান পাতলে একটি প্রশ্নই শোনা যাচ্ছে— ‘নন্দদা কি এ বারও জিতছেন?’ ভোট পরবর্তী কোনও সমীক্ষা তাঁকে এগিয়ে রাখছে তো কোনও সংখ্যাতত্ত্ব তাঁকে পিছিয়ে দেখাচ্ছে।

নন্দ নিজে কী বলছেন? ভোটের ধকল শেষে দিনভর বিশ্রামের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফুরফুরে মেজাজেই পাওয়া গেল তাঁঁকে। ফল কী হবে জানতে চাওয়া মাত্র বললেন, “আশা করছি, ২৫ হাজারের মার্জিনে জিতব।” খানিক থেমে যোগ করলেন, “যে ভাবে মা-মাটি-মানুষের সরকার মানুষের পাশে থেকেছে, তাতে অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই।”

কিন্তু অসুস্থতার কারণে তো দীর্ঘ দিন মানুষের কাছে নিজে পারেননি? নন্দর জবাব, “ব্যক্তিটা এখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা একটা দল হিসাবে কাজ করি। আমি যাইনি, কিন্তু অন্য কেউ গিয়েছেন। ভোটের ফলে তারই প্রতিফলন দেখা যাবে।”

নিজে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। প্রচার-পর্বে যে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা তাঁর সম্পর্কে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন ‘টাইগার আভি জ়িন্দা হ্যায়’ বা ‘মরা হাতি লাখ টাকা’— সে সব তিনি জানেনও না। ভোট-সাঙ্গ সন্ধ্যায় সে কথা বলতেই সশব্দে হেসে উঠলেন নন্দ, বললেন— “হাতি তো এখনও মরেনি! আর মাহুতের দলও চাঙ্গা!”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন