—প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যে ফিরেছে নিপা ভাইরাস! সঙ্কটজনক অবস্থায় উত্তর ২৪ পরগনার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিপা-আক্রান্ত দুই নার্স। তাঁদের মধ্যে এক জন আবার গত ডিসেম্বর মাসেই বেড়াতে গিয়েছিলেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে! সেই খবর চাউর হতেই এ বার আতঙ্ক ছড়াল নদিয়াতেও।
নিপা-আক্রান্ত দুই নার্স বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে এক জনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। তবে জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে ওই নার্স কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের শিবনিবাসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এই নদিয়া-যোগের কথা প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্য দফতরের। সংক্রমণের উৎস খুঁজতে উঠেপড়ে লেগেছেন জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, গত ১৪ ডিসেম্বর কাটোয়ার ওই নার্স শিবনিবাসে গিয়েছিলেন। সেখানকার একটি লজে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। ওই সময়ের মধ্যে তিনি কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁর ‘রুট ম্যাপ’ ঠিক কী ছিল— সেই নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ। চলছে ‘কন্ট্যাক্ট টেস্টিং’-এর কাজ। অর্থাৎ, যাঁরাই ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে নমুনা সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জনকে চিহ্নিত করে নিভৃতবাস (কোয়ারেন্টিন)-এ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নদিয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘‘আক্রান্ত নার্সের বাড়ি এই জেলায় নয়। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। তবে তিনি কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে বেড়াতে এসেছিলেন। ওই সময় তিনি কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
শিবনিবাস মন্দির সংলগ্ন ওই লজের মালিকও আতঙ্কিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, ‘‘ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ পূর্ব বর্ধমান থেকে এক জন এসেছিলেন। দু’দিন আগে জানতে পারি, তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।’’ লজের মালিক আরও জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতরের তরফে হোটেলের তথ্য কাউকে দিতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য দিকে, নিপা-আক্রান্ত দুই নার্স কিছু দিন আগে বর্ধমানেও গিয়েছিলেন বলে খবর। কাটোয়ায় তাঁরা কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, ইতিমধ্যেই তার সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করে সকলের স্বাস্থ্যের অবস্থার খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম। তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪৮ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
২০০৭ সালের এপ্রিলে নদিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম বেলেচুয়াপাড়ায় খেজুরের রস থেকে তৈরি মদ খেয়ে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছিল। পরে তাঁর সংস্পর্শে আসা আরও চার জন প্রাণ হারান। সেই ঘটনার এত বছর পর ফের নিপা-আতঙ্ক ফিরল নদিয়ায়।