Coronavirus

মন ফুরফুরে রেখেই সুস্থ হওয়ার পথে

সোমবার পর্যন্ত নদিয়া জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৬, যার মধ্যে জেলার চিকিৎসা হয়েছে ১৯৮ জনের।

Advertisement

সুস্মিত হালদার 

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২০ ০৩:৫৯
Share:

প্রতীকী ছবি

নদিয়া জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও স্বাস্থ্যকর্তাদের আশা দেখাচ্ছে একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা সুস্থতার হার। এখনও পর্যন্ত জেলায় মাত্র এক জনের মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

কল্যাণীর কোভিড হাসপাতালের চিকিসৎকদের দাবি, সময় মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা তো বটেই, তার পাশাপাশি রোগীদের লাগাতার মানসিক জোর জোগানোটাও কাজে এসেছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, “প্রথম দিকে কোভিড হাসপাতাল চালু করা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলেও তা চালু হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা আমাদের সাফল্য এনে দিয়েছে।”

পলাশিপাড়ার শ্রীকৃষ্ণপুরে সেই যে প্রথম দিল্লি ছুঁয়ে আসা একই পরিবারের পাঁচ জন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল, তার পর থেকে সময় যত গড়িয়েছে সংখ্যাটা তত বেড়েছে। বিশেষ করে ২ মে থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরতে শুরু করার পর আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। সোমবার পর্যন্ত নদিয়া জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৬, যার মধ্যে জেলার চিকিৎসা হয়েছে ১৯৮ জনের। এর মধ্যে ১৪১ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। ভর্তি আছেন ৫৬ জন। মারা গিয়েছেন শুধু চাকদহের এক সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ। আক্রান্তদের বেশির ভাগই পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁদের নিভৃতাবাসে রেখে লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ হলে কোভিড হাসপাতালে আর নেগেটিভ হলে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

কল্যাণীর এনএনআর কার্নিভাল কোভিড হাসপাতালের নোডাল অফিসার অয়ন ঘোষের মতে, “আমাদের জেলায় করোনা আক্রান্তদের মৃত্যু আটকাতে পারার অন্যতম প্রধান কারণ হল প্রথম থেকে প্রচুর সংখ্যক কোয়রান্টিন সেন্টার তৈরি করে ফেলা। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের সেখানে রেখে দেওয়াটাই কৌশল হিসেবে কার্যকর হয়েছে। চিকিৎসাও সঠিক সময়ে শুরু করা গিয়েছে।”

প্রথম দিকে জেলার আক্রান্তদের কলকাতা বা উত্তর ২৪ পরগনার কোবিড় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল থেকে কল্যাণীর কার্নিভালে কোভিড হাসপাতালে নৈহাটির এক করোনা আক্রান্ত মহিলা ভর্তি হওয়ার পর থেকে জেলায় পুরোপুরি চিকিৎসা শুরু হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত কোনও রোগীর ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটর ব্যবহার করতে হয়নি।

কার্নিভাল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, তাঁরা রোগীদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মানসিক জোর তৈরি করার ক্ষেত্রে। রোগীর মন থেকে প্রথমেই মৃত্যুভয় কাটিয়ে দেওয়ার জন্য ‘ইমোশানাল কাউন্সেলিং’ করছেন। আশ্বস্ত করছেন যে তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাবেন। কর্তব্যরত নার্সদের কাছে থাকছে একটি সাধারণ ফোন, যা দিয়ে তাঁরা নিয়মিত রোগীদের সঙ্গে তাঁদের বাড়ির লোকেদের কথা বলিয়ে দিচ্ছেন, গল্প করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। চেষ্টা করছেন যাতে ভর্তি থাকা রোগীদের মন চনমনে থাকে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই হাসপাতাল থেকে ১৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। বিদায় বেলায় তাঁদের একটি করে গাছ উপহার দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের সংবর্ধনা দিয়েছিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা। সেটা দোতলার বারান্দা থেকে দেখেছিলেন চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা। এতেও তাঁরা অনেকটাই মানসিক জোর ফিরে পান বলে দাবি চিকিৎসকদের। কোভিড হাসপাতালের নোডাল অফিসার চিকিৎসক অয়ন ঘোষ অবশ্য বলছেন, “সরকারি নির্দেশিকা মেনে চিকিৎসা করেই আমরা সাফল্য পাচ্ছি। চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে সমস্ত হাসপাতাল কর্মীর মরণপণ লড়াইটাও কিন্তু বড় কথা।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement