Chicken Price Rises

মুরগির দাম নিয়ে কপালে ভাঁজ গৃহস্থের

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে কাঁচা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগান ব্যাহত হওয়ায় পোলট্রি খাদ্যের অন্যতম উপাদান ডিএল-মেথিওনিন (DLM)-এর দাম বেড়েছে।

সুদেব দাস

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৩
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

যুদ্ধের আঁচ এ বার লাগছে মুরগির মাংসেও।

জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে টান পড়তেই খোলা বাজারে চড়ছে ব্রয়লার মুরগির মাংসের দাম। বুধবার কল্যাণী, হরিণঘাটা, রানাঘাট, শান্তিপুর-সহ একাধিক এলাকায় কাটা ব্রয়লার মুরগির মাংস বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ২৩০-২৭০ টাকা দরে। গত এক সপ্তাহে প্রায় রোজই দাম বেড়েছে বলেই অভিযোগ ক্রেতাদের।

বিক্রেতাদের কথায়, পাইকারি বাজারেই ব্রয়লারের দাম বাড়ছে লাগাতার। ফলে বেশি দামে মুরগি বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকছে না। অন্য দিকে, খামার মালিকদের দাবি, গরমে এমনিতেই মুরগির উৎপাদন কমে যায়। তার উপর এ বার খাদ্য ও অন্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়ে গিয়েছে।

সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে কাঁচা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগান ব্যাহত হওয়ায় পোলট্রি খাদ্যের অন্যতম উপাদান ডিএল-মেথিওনিন (DLM)-এর দাম বেড়েছে। এই উপাদান তৈরির কাঁচামাল প্রোপিলিন-নির্ভর হওয়ায় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে টান পড়লেই তার প্রভাব পড়ে হাঁস-মুরগির খাদ্যের দামে।

এ ছাড়াও অ্যামোনিয়া-নির্ভর সার ইউরিয়া ও ডিএপি দামি হওয়ায় ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এই দুই উপাদান পোলট্রি খাদ্যের মূল ভিত্তি হওয়ায় সামগ্রিক ভাবে খাদ্যের দাম আরও চড়ছে। রাজ্য পোলট্রি ফেডারেশনের একটি সূত্রের দাবি, ব্রয়লার মুরগির ভিটামিন ও ভ্যাকসিনের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সেই সরবরাহেও ভাটা পড়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গিয়ে মাংসের দামে তার প্রভাব পড়ছে।

মুরগির দাম বাড়ার জেরে সাধারণ মানুষের কপালে ভাঁজ পড়েছে। পায়রাডাঙার বাসিন্দা সুবোধ হাজরা বলেন, “গত এক সপ্তাহে রোজই মাংসের দাম বেড়েছে। এ ভাবে বাড়তে থাকলে আমরা খাব কী?” তবে সরকারি সংস্থার দাবি, এখনই সর্বত্র দাম বাড়েনি। বিশেষত সরকারি জোগানের ক্ষেত্রে। রাজ্যের লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর উৎপল কর্মকার বলেন, “হরিণঘাটা মিটে এখনও দাম বাড়ানো হয়নি। প্যাকেটজাত মাংস ২০০ টাকা কিলো দরে দেওয়া হচ্ছে। চেষ্টা করছি যাতে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ না পড়ে।”

মুরগি উৎপাদনে শীর্ষে থাকা বাংলা থেকে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, অসম ও বিহারে বিপুল পরিমাণ মুরগি যায়। এর আগে দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় অসমে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞাও জারি করতে হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ ও সরবরাহের চাপ না কমলে খোলা বাজারে মুরগির দামে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন