Gold Trafficking Scam

কোমরে ‘সোনার বেল্ট’! চাকদহের কাছে নাটকীয় গোয়েন্দা-অভিযানে ধৃত সাত পাচারকারী, উদ্ধার ২৪ কেজি সোনা

কৃষ্ণনগর থেকে চাকদহের দিকে যাচ্ছিল পর পর সাতটি বাইক। আরোহীদের পরনে ছিল সাদামাঠা পোশাক, চুলও উস্কোখুস্কো। তাঁদের কোমরেই লুকোনো ছিল তাল তাল সোনা!

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১৯:৪৭
Share:

চাকদহে বাইক আরোহীদের কাছ থেকে উদ্ধার ২৪ কেজি সোনার বার। —নিজস্ব চিত্র।

আন্তর্জাতিক সোনা পাচার চক্রের পর্দাফাঁস হল নদিয়ায়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে চাকদহে বৃহস্পতিবার সাত বাইকআরোহীকে ধরেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিআরআই-এর (ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স) আধিকারিকেরা। অভিযোগ, কোমরের বেল্টে সোনা লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। তাঁদের কাছ থেকে মোট ২৪ কেজি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৪ কোটি টাকারও বেশি।

Advertisement

সূত্রের খবর, কৃষ্ণনগর থেকে চাকদহের দিকে যাচ্ছিল পর পর সাতটি বাইক। আরোহীদের পরনে ছিল সাদামাঠা পোশাক, চুলও উস্কোখুস্কো। আপাতদৃষ্টিতে তাঁদের দেখে কোনও সন্দেহ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তাঁদের কোমরেই লুকনো ছিল তাল তাল সোনা! বাইক আরোহীরা জানতেন না, তাঁদের অনুসরণ করছেন গোয়েন্দারা। চাকদহের কাছে বাইকগুলিকে আচমকা ঘিরে ফেলা হয়। ডিআরআই সদস্যেরা বাইক থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। কোমরে হাত দিতেই বেরিয়ে আসে হলুদ ধাতু। অভিযোগ, প্রত্যেকের জামার ভিতরে কোমরে শক্ত করে বাঁধা ছিল বিশেষ ভাবে তৈরি কাপড়ের বেল্ট। তার ভিতরে ছিল চকচকে বিদেশি সোনার বার। এক নয়, একাধিক!

সাত জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের মাথা পর্যন্ত পৌঁছোতে চাইছেন গোয়েন্দারা। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সাত জনের কোমরে সবমিলিয়ে মোট ১৮০টি সোনার বার ছিল। তার মোট ওজন ২৪ কেজি। ১৯৬২ সালের কাস্টম্‌স আইন অনুযায়ী এই সোনা বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

Advertisement

সোনা এল কোথা থেকে? সূত্রের দাবি, জেরায় ধৃতেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এই সোনা তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। পরবর্তী দলের হাতে তা পৌঁছে দেওয়া পর্যন্তই তাঁদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ ছিল। গোয়েন্দাদের মতে, এঁরা পাচারচক্রের প্রথম স্তর বা ‘বাহক’। এ ভাবে একাধিক হাত ঘুরে সোনা মূল গন্তব্যে পৌঁছোত, যাতে মূল মাথারা আড়ালে, গোয়েন্দাদের নাগালের বাইরে থাকতে পারেন। সোনা কলকাতার দিকে যাচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement