জিভে গরম ইডলি-মোমো

সান্ধ্য-স্বাদে মফস্সল যেন কসমোপলিটান

সটান দক্ষিণ এসে ঠেকেছে বহরমপুরের রাস্তায়। কলকাতার রাস্তায় পুরনো হয়ে এলেও মফস্সলের পথে এমন চলমান দক্ষিণী ফুড ক্যান্টিন, নতুনই।

Advertisement

শুভাশিস সৈয়দ ও সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০১:৩১
Share:

সাঁঝ নামতেই শীতের রাস্তায় তাওয়া পেটানো ঠং ঠং আওয়াজে ঘটি-গরম বিকিকিনির নব্য উপায় ঠাওড়ে বারান্দায় ঝুঁকতেই চমকে গিয়েছিল পাড়া— ইডলি, ধোসাআআআআআ...!

Advertisement

সটান দক্ষিণ এসে ঠেকেছে বহরমপুরের রাস্তায়। কলকাতার রাস্তায় পুরনো হয়ে এলেও মফস্সলের পথে এমন চলমান দক্ষিণী ফুড ক্যান্টিন, নতুনই।

আর পড়শি শহর কৃষ্ণনগরে চপ-রোলের চেনা বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যিনি, আসুন, তাঁর সঙ্গে আলাপটা সেরে নিই একটু— শিলিগুড়িতে বেড়াতে গিয়ে রাস্তা ঘেঁষা স্টলে খেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন মানিক ঘোষ, ‘কী নাম বললেন ভাই, মোমো!’

Advertisement

কৃষ্ণনগরে ফিরে বাড়ির কাছেই স্টল খুলে বসেছিলেন। বছর কয়েক আগের সেই স্টলেই এখন হুমড়ি খাওয়া ভিড়, পাহাড়ি মোমো নেমে এসেছে গাঙ্গেয় মফস্সলে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই মানিকের দেখানো পথে সে মোমোর এখন কৃষ্ণনগর জুড়ে বিনবিনে মশার মতো স্টল। এলইডি’র ছায়ায় মোমোর রেকাবি দাপটে ব্যবসা করছে বহরমপুরেও।

আর, এ ভাবেই মফসসলের সান্ধ্য পাতের রুচিটাই বদলে গিয়েছে গত কয়েক বছরে।

বহরমপুরের চপ-বেগুনির ভরা বাজারে দীর্ঘ দিন রাজ করে আসা মোহনের মোড়ের কণিকা মার্জিত বলছেন, ‘‘কী বলি বলুন, যবে থেকে শহরে মোমো এসেছে তেলেভাজায় ভাঁটা পড়েছে। সাতটায় আড়াইশো বেগুনি ভেজে হাঁফিয়ে উঠতাম, এখন কাচের বাক্সে নেতিয়ে পড়ে থাকছে মোচার চপ। টান-টান বেগুনি।’’

বহরমপুরের এক রেস্তোরাঁ মালিক সৌমেন সরকার ধরিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘আসলে কী জানেন তো, স্বাস্থ্য ব্যপারটা নিয়ে মানুষ নতুন করে সচেতন হয়ে উঠছে। ভাজা খাবারের চেয়ে দক্ষিণি ইডলি কিংবা স্টিমড মোমোতেই তাই ঝুঁকেছে হালের জেনারেশন। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কারিগর আনিয়ে সে সবই বানাতে হচ্ছে আমাদের।’’ নব্য স্বাদের এই সব মুখরোচক খাবার এতটাই লাভজনক যে, কৃষ্ণনগরের একটি পরিবারের চার-চার জন বেকার ভাই এখন মোমৃইডলিতেই হাত পাকিয়ে ‘আচ্ছে দিন’ ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁরা বলছেন, ‘‘তেলে ভাজা মা মশলাদার খাবারের উপর একটা নাক সিঁটকানো ভাব এসেছে কৃষ্ণনগরের। বরং কম তেলের এই সব দক্ষিণ ভারতীয় খাবার কিংবা পাহাড়ি মোমোতে ছেলেপুলেরা এখন অনেক সচ্ছন্দ। আসলে মোমো বা ধোসা, প্রায় তেল মশলা ছাড়াই তৈরি হয় বলে একটা অন্য টান রয়েছে।’’ কলেজ পড়ুয়া দীপ্তেশ বিশ্বাস ধরিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘তা ছাড়া দামেও সস্তা। সহজ পাচ্য এ সব খাবারে পেটও ভরে যায়। এক কথায় সস্তায় পুষ্টিকর বলতে পারেন!’’ নতুন স্বভাব, নব্য আদব-কায়দা, নয়া রুচি— স্বাদে যেন কসমোপলিটান ঘর বেঁধেছে মফস্সলে!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement