TMC

TMC: উন্নত পরিষেবার আশ্বাস দিলেন নাড়ু

২০১৬ সালের মাঝামাঝি তৎকালীন পুরপ্রধান নীলরতন আঢ্য তাঁর কাছের কাউন্সিলরদের নিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে রাজ্যের শাসক দলে ভিড়েছিলেন।উন্নত পরিষেবার আশ্বাস দিলেন নাড়ু

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২২ ০৬:৫০
Share:

নির্বাচনের পরে। নিজস্ব চিত্র।

রাজ্য জুড়ে জারি থাকা তিরিশ বছরের কংগ্রেস মিথ ভেঙেছে চলতি বছর পুরসভা নির্বাচনের পরেই। সেই নির্বাচনে বহরমপুর পুরসভায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেয়েছে তৃণমূল। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৬-র মাঝামাঝি পর্যন্ত টানা এই পুরসভার দায়িত্ব ছিল কংগ্রেসের। চলতি বছরের পুর নির্বাচনে বহরমপুর পুরসভায় ২৮ টি আসনের মধ্যে ছ’টি আসন পেয়ে আজ তাঁদের ঠাঁই বিরোধী আসনে। বহরমপুর পুরসভার বিজয়ী কাউন্সিলরদের বুধবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও গরহাজির ছিলেন তাঁদের কাউন্সিলরা। “ব্যক্তিগত কারণেই” তাঁরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গরহাজির বলে দাবি করেছেন সদর মহকুমাশাসক প্রভাত চট্টোপাধ্যায়। বহরমপুর পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর হিরু হালদারকে কংগ্রেস বিরোধী দলনেতা করেছে। দলের কাজে তাঁদের কেউ কেউ শহরে না থাকায় তাঁরা যেতে পারেননি জানিয়ে হিরু বলেন, “৩০ তারিখ শপথ নেব বলে মহকুমাশাসককে জানিয়েছি।”

Advertisement

২০১৬ সালের মাঝামাঝি তৎকালীন পুরপ্রধান নীলরতন আঢ্য তাঁর কাছের কাউন্সিলরদের নিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে রাজ্যের শাসক দলে ভিড়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে তৃণমূলের দখল করা সেই বোর্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণের পর আর তাঁর আর দেখা মেলেনি পুরসভার অলিন্দে। আর সেই সময় থেকে ওই পুরসভার অন্দরে উত্থান প্রাক্তন পুরকর্মী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের। বহরমপুর পুরসভার পুরপ্রধান পদে তাঁর নাম দলের প্রস্তাবে ছিল আগেই। বুধবার জোড়াফুলের কাউন্সিলররা শপথ গ্রহণ শেষে তাঁর পক্ষে ধ্বনিভোট দিয়ে পুরপ্রধান পদে মেনে নেন নাড়ুগোপালকেই।

শাসকদলের পুরকর্মী সংগঠনের নেতা থেকে আজ পুরপ্রধান হলেন তিনি। দায়িত্ব নিয়ে পুরবাসীকে কথা দিয়েছেন “তহবিলে ঘাটতি থাকলেও আগামী কয়েক মাস বাড়বে না পুরকর। চালু থাকবে জরুরি পরিষেবা।” তবে নতুন প্রকল্পেও হাতে নেবে না পুরসভা, দাবি সূত্রের।
মাঝখানে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়েই নাড়ুগোপালের সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ। সেই সময়েই তিনি পুরকর্মীর চাকরি ছেড়েছিলেন।

Advertisement

বিধায়ক হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে গেলেও থামেননি। সেই নির্বাচন মিটে গেলে পুর নির্বাচনকেই পাখির চোখ করেছিলেন নাড়ুগোপাল। নিজে না বসে তাঁর পছন্দের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্বরূপ সাহাকে পুর প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়ে ওই পুরসভার মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে দশ মাস পুরসভার প্রায় প্রতিটি বুথ চষে বেড়িয়ে এলাকাবাসীকে অকাতরে বিলিয়েছেন প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনেও দলের হাজার বিক্ষুব্ধকে এক ছাতার তলায় দাঁড় করিয়ে কংগ্রেসকে কার্যত হঠিয়ে দিয়ে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বহরমপুর পুরসভায়। এ দিনও সন্তপর্ণে সামলেছেন মনঃক্ষুণ্ণ জয়ী কাউন্সিলদের। স্বরূপকে উপ পুরপ্রধান হিসেবে বেছে নিলেও দুই বরিষ্ঠ কাউন্সিল জয়ন্ত প্রামাণিক ও অপর্ণা শর্মার সঙ্গে তরুণ ছাত্র নেতা ভীষ্মদেব কর্মকারকে প্রাধান্য দিয়েছেন বক্তব্য থেকে অনুষ্ঠান পরিচালনা সবেতেই।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement