ধর্মীয় অনুষঙ্গেও জড়িয়ে গেল রাজনীতি। ইফতার ঘিরেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠল ফরাক্কা। দিনকয়েক ধরে রঘুনাথগঞ্জ মহকুমার কয়েকটি প়ঞ্চায়েতে শাসকদলের দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছিল। এ বার ফরাক্কায় ইফতারকে ঘিরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেখা গেল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরাক্কার যুব তৃণমূলের নেতার ইফতার পার্টি ভেস্তে দিতে উদ্যোগী হলেন দলের ব্লক নেতৃত্ব। ন’টি অঞ্চলে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দলের যুব সংগঠন ফরাক্কার ফরাক্কার সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজে ইফতারের আয়োজন করে। সেখানে ৫০০ জনের ইফতারের আয়োজন করা হয়। কিন্তু শেষমেশ কলেজের হল ভরেনি। মেরেকেটে শ’তিনেক লোক ওই ইফতারের অনুষ্ঠানে যান। খাতায় কলমে যুব তৃণমূলের নামে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়। কিন্তু আদতে মূল আয়োজক ছিলেন জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি সোমেন পান্ডে ও দলের জয়হিন্দ বাহিনীর জেলা সভাপতি সুনীল চৌধুরী।
এই ইফতারের অনুষ্ঠানকে ভেস্তে দিতে আসরে নামেন ফরাক্কা ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মহম্মদ বদরুদ্দোজা ও দলের ব্লক পর্যবেক্ষক মহম্মদ মোস্তফা। তাঁরা বিভিন্ন অঞ্চল সভাপতিকে নিজের নিজের এলাকায় এ দিন ইফতার পার্টির আয়োজনের নির্দেশ দেন। যাতে গ্রাম-গঞ্জ থেকে লোকজন যুব তৃণমূলের আয়োজিত ইফতার পার্টিতে না আসেন।
দলের ব্লক সভাপতির এই আচরণে বেজায় চটেছেন সোমেনবাবু। তিনি বলেন, “প্রতি বছরই দলের তরফে ফরাক্কায় পার্টি করা হয়। এবার দল কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় যুব সংগঠনের নেতারা কলেজ চত্বরে ইফতারের আয়োজন করেন। কিন্তু তা ভেস্তে দিতে ব্লকের নেতারা বিভিন্ন অ়ঞ্চলে পাল্টা ইফতার পার্টির আয়োজন করল। এটা মানা যায় না।’’ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মহম্মদ বদরুদ্দোজা জানান, দিনভর রোজা রেখে লোকজন গ্রাম-গঞ্জ থেকে ফরাক্কায় আসতে পারেন না। তাই তাঁরা বিভিন্ন অঞ্চলে ইফতারের আয়োজন করেছেন। এর মধ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই। জেলা তৃণমূলের সভাপতি মান্নান হোসেন অবশ্য বলছেন, “ইফতার একটা ধর্মীয় প্রথা। ফরাক্কায় দশ জায়গায় ইফতারে ক্ষতি কী? সেখানে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। এর মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব খুঁজতে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে ফরাক্কায় দলের মধ্যে কিছু কোন্দল রয়েছে। সে বিষয়ে পরে পদক্ষেপ করা হবে।’’