Eye Donation

মৃত মায়ের কর্নিয়া পেলেন দু’জন দৃষ্টিহীন! আইনি জটিলতায় শ্রীঘরেই বন্দি সমাজকর্মী পুত্র

কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর এলাকার বাসিন্দা রাবেয়ার কয়েক দিন আগে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর আগে রাবেয়া তাঁর মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে বারবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৩৮
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

মৃত্যুর পর আঁধার ঘুচিয়ে দুই ব্যক্তিকে নতুন আলোর দিশা দেখালেন কৃষ্ণনগরের রাবেয়া বিবি। তাঁর দান করা কর্নিয়ায় দৃষ্টি ফিরে পেলেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের দুই রোগী। কিন্তু এই ‘মহৎ কাজ’-এর দিনেও শোক কাটল না পরিবারের। যেই পুত্র মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে মরিয়া ছিলেন, ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’র অভিযোগে আপাতত তাঁকে থাকতে হচ্ছে শ্রীঘরেই।

Advertisement

কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর এলাকার বাসিন্দা রাবেয়ার কয়েক দিন আগে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর আগে রাবেয়া তাঁর মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে বারবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। শোকের আবহেই সেই ইচ্ছা পূরণে উদ্যোগী হন তাঁর ছেলে এবং পরিবারের অন্যান্যরা। কিন্তু মৃত্যুটি ‘স্বাভাবিক নয়’— এই অভিযোগ তুলে পুলিশি জটিলতা তৈরি হয়। ময়নাতদন্ত ছাড়া চক্ষুদান সম্ভব ছিল না। এই টানাপড়েনের মাঝেই মায়ের দেহ নিয়ে দীর্ঘ লড়াই চালাতে হয় পরিবারকে।

অবশেষে আইনি জট কাটিয়ে রাবেয়ার কর্নিয়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর, তাঁর সংগৃহীত কর্নিয়া দু’টি সফলভাবে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে দুই দৃষ্টিহীন ব্যক্তির চোখে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পেলেন তাঁরা। মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানালেও, রাবেয়ার পরিবারের জন্য দিনটি ছিল মিশ্র অনুভূতির।

Advertisement

এক দিকে মায়ের শেষ ইচ্ছাপূরণের তৃপ্তি, অন্য দিকে শোকাতুর ছেলের কারাবাস। রাবেয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ওঠায় তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে। মায়ের চোখ যখন অন্যের জীবন আলোকিত করছে, তখন সেই আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে অন্ধকার জেলে দিন কাটছে তাঁর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মায়ের প্রতি কর্তব্যপালনে কোনও খামতি রাখেননি ওই যুবক। তবে আইনের জটিল প্যাঁচে পড়ে এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন তিনি। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের খবর পাওয়ার পর রাবেয়ার পরিজনেরা বলেন, “মা চেয়েছেন বলেই আজ দু’জন মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। এটুকুই আমাদের প্রাপ্তি। কিন্তু ওর (ছেলে) জন্য মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে আছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement