কৃষ্ণনগর ২ ব্লক অফিস ভাঙচুরের পরে
পঞ্চায়েতের মাধ্যমে নয়। ত্রাণ বিলি করতে হবে দলের মাধ্যমে। এই দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে কৃষ্ণনগর ২ বিডিও-এর ঘরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল শাসকদলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এ দিন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শিবশঙ্কর দত্তের নেতৃত্বে এক দল কর্মী আচমকা ব্লক অফিসে হানা দেয়। সেই সময় বিডিও শাশ্বত দাশগুপ্ত অফিসে ছিলেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শিবশঙ্করবাবু তার দলবল নিয়ে বিডিও-এর ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। টেবিলের কাঁচ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় চেয়ার, টেবিলেও। ঘরে তালাও লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আচমকা এই হামলায় ব্লক কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁদেরকে জোর করে অফিসের বাইরে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। বেশ কিছু সময় তাণ্ডব চালানোর পরে শিবশঙ্করবাবু অনুগামীদের নিয়ে ব্লক অফিসের বাইরে চেয়ার পেতে বসে থাকেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন অতিরিক্ত জেলাশাসক দেবকুমার নন্দন ও কৃষ্ণনগর সদর মহকুমাশাসক মৈত্রেয়ী গঙ্গোপাধ্যায়। আসেন বিডিও। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারাও।
এরই মধ্যে বিডিও অফিসে হাজির হন এলাকার বিধায়ক তথা কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি অবশ্য ঘটনার পিছনে অনুগামী শিবশঙ্করবাবু-সহ দলের লোকেদের যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন। বরং সংবাদমাধ্যমকে দায়ী করার পাশাপাশি কাঠগড়ায় তোলেন বানভাসী মানুষদের। তাঁর কথায়, ‘‘এই ব্লকে ব্যাপক বন্যা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সেটা দেখাচ্ছে না। সেই কারণেই বন্যার্ত মানুষেরা ব্লক অফিসে এসে হামলা চালিয়েছে।’’ কিন্তু, সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশ না করার সঙ্গে বিডিও-র কার্যালয়ে ভাঙচুরের সম্পর্ক কোথায়, সে সদুত্তর মেলেনি।
জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, ,‘‘ত্রাণ বণ্টন নিয়ে ব্লকে একটা সমস্যা হয়েছে। ভাঙচুরও করা হয়েছে। আমরা তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। যাঁরা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সিপিএম এর জগন্নাথ ঘোষ বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক এক সঙ্গে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে বন্যা মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছি। তাতেই আপত্তি মন্ত্রী ও তাঁর লোকেদের। তাঁরা বিডিও এর উপর চাপ তৈরি করছেন এই বলে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে নয়, সরাসরি তাদের মাধ্যমে ত্রাণ বিলি করতে হবে। বিডিও তাতে রাজি না হওয়ার কারণেই এই হামলা।’’ যদিও উজ্জ্বলবাবু অভিযোগ অস্বীকার করেছেনে। তিনি বলেন, ‘‘শিবশঙ্কর কোন ভাবেই এই ঘটনায় যুক্ত নয়। সিপিএম পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতি ত্রাণ সামগ্রী বিলি না করে নিজেদের ঘরে জমিয়ে রাখছে বলেই বানভাসী মানুষেরা ব্লক অফিসে এসে প্রতিবাদ জানিয়ে গিয়েছে।’’
অন্য দিকে, জলমগ্ন এলাকার মানুষ দিনের পর দিন কী ভাবে কাটাচ্ছেন, তা নিয়ে ন্যূনতম খোঁজখবরও নেননি স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক। এই অভিযোগে কল্যাণীর বিধায়ক রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দলের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। পার্থবাবুর সামনেই রমেন্দ্রনাথবাবুকে ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ করতেও দেখা যায়। শেষমেষ জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক পার্থবাবুর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিক্ষোভে সামিল অনিমেশ হালদার, মিনাজুল মণ্ডলেরা একরাশ ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, সপ্তাহখানেকেরও বেশি সময় এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। অথচ স্থানীয় বিধায়ক এক বারের জন্যেও এলাকায় আসার প্রয়োজন মনে করেননি। অথচ ভোটের সময় প্রাণপাত করে তাঁকেই জিতিয়েছি। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন, ‘‘বিধায়ক কেন আসছেন না, পর্যাপ্ত ত্রিপল কেন মিলছে না— সাধারণ মানুষের এই সব প্রশ্নে কী বলব বলতে পারেন?’’
পার্থবাবুকে হাতের কাছে পেয়ে সেই ক্ষোভের কথা জানান স্থানীয়েরা। পার্থবাবুর কথায়, ‘‘ওদের দাবি বিধায়ককে এলাকায় আরও বেশি করে আসতে হবে। বিধায়ককে সকলের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি।’’ রমেন্দ্রনাথবাবু অবশ্য দলীয় কর্মীদের অভিযোগ মানতে চাননি। তাঁর দাবি, ‘‘এলাকায় গিয়েছিলাম তো! এলাকার দু’একজন ষড়যন্ত্র করে মন্ত্রীর সামনে এ সব কাণ্ড ঘটিয়েছে।’’