রবিবার রাতেই পুলিশ গিয়ে মেলা ভেঙে দিয়েছে। পরীক্ষার আগে মেলা বন্ধে কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে পড়ুয়ারাও। এরপরেও এলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন, পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বিডিও-র আবাসনের কাছে কলেজ মাঠে পরপর তিন দিন মাইক বাজিয়ে মেলা চলল কী করে?
মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সি সুধাকর ষোলআনা দায় চাপিয়েছেন অধ্যক্ষের উপরে। তিনি বলেন, ‘‘ফরাক্কার কলেজ মাঠের ক্যাম্পাসে মেলা হচ্ছিল। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার আগে ওই মেলার অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তাদের ক্ষতি হয় এমন কাজ কলেজ কর্তৃপক্ষের করা উচিত হয়নি।’’ অধ্যক্ষ শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফাই, ‘‘উদ্যোক্তারা স্থানীয় ছেলে। ওরা বলেছিল পুলিশ, প্রশাসন সব কিছু বুঝে নেবে।’’ একই সঙ্গে তিনি জানান, মেলার যে অনুমতি দিয়েছি তাতে স্পষ্ট বলা আছে প্রশাসন ও ফরাক্কা থানার পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে মেলা করা যাবে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রশাসন যদি মেলার অনুমতি না দিয়ে থাকে তবে তাদেরই মেলা বন্ধ করা উচিত ছিল।’’
গত শুক্রবার থেকে ফরাক্কার কলেজ মাঠে হস্টেলের পাশে মেলা শুরু হয়। মাইকের দাপটে হস্টেল ছাড়তে শুরু করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে আবাসিকদের তরফে লিখিত অভিযোগ জানানো হয় ফরাক্কার বিডিও ও আইসিকে। তাঁরা মেলা ও মাইক বাজানোর অনুমতি দেননি। তারপরেও গত তিন দিন ধরে কার্যত চোখ বন্ধ করেছিলেন পুলিশ ও প্রশাসন। এক ছাত্রের কথায়, ‘‘তিন দিন কী ভাবে কাটিয়েছি আমরাই জানি।’’ রবিবার রাতে পুলিশ মেলা বন্ধ করায় হাঁফ ছেড়েছেন সকলেই। হুঁশ ফেরায় খুশি রাজনৈতিক দলের নেতারাও।