সহকর্মী ও ছাত্রীদের সঙ্গে মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সুদীপ ভট্টাচার্য।
বেলা ১১টা। কলেজে পুরোদস্তুর গরমের ছুটি। তার মাঝেই কৃষ্ণনগর উইমেন’স কলেজে উপচে পড়ল ছাত্রী আর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভিড়। কলেজের নতুন অধ্যক্ষকে স্বাগত জানাতেই এই জমায়েত। অধ্যক্ষ পদে এ দিন দায়িত্ব নিলেন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
নতুন অধ্যক্ষকে পেয়ে স্পষ্টতই খুশির ঝলক দেখা গেল ছাত্রীদের ভিড়ে। অনিন্দিতা পাল, শাবানা খাতুনরা বেশ আশাবাদী মানবীকে পেয়ে। তাঁদের বিশ্বাস, মানবীর হাত ধরে কৃষ্ণনগর উইমেন’স কলেজে আবার খ্যাতির সোনালি দিন ফিরবে। অকপটে বললেন ছাত্রীরা, “ওঁর জন্য আমরা গর্বিত। ওঁর সংগ্রামকে আমরা শ্রদ্ধা করি।” এক কথার রেশ শোনা গেল কলেজের ছাত্রীদের প্রতিনিধি পায়েল হালদারের কথাতেও। দীর্ধ দিন পরে কৃষ্ণনগর উইমেন’স কলেজ এক জন অধ্যক্ষ পেয়েছে— সেটাই যথেষ্ট স্বস্তি এনে দিয়েছে পায়েলের কাছে। পায়েল বললেন, “আমরা আশাবাদী। এ বার সমস্যা মিটবে।” প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে নতুন অধ্যক্ষর প্রতি যে ছাত্রীদের সমর্থন সব সময়ে থাকবে, জানাতে ভুললেন না তা-ও। শিক্ষকরাও আনন্দিত মানবীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে। সূর্যেন্দু চক্রবর্তী বা বুদ্ধেশ্বর হালদারের মতো শিক্ষকরাও মনে করছেন, মানবীর হস্তক্ষেপে কলেজের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হবে।
মানবী কিন্তু সবার প্রথমে গুরুত্ব দিচ্ছেন ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে। সেটা সুনিশ্চিত করার পরে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে কলেজের উন্নতির কাজে হাত দিতে চান তিনি। ঘেরাওয়ের রাজনীতিকে তিনি সমর্থন করেন না। তবে, তাঁর ছাত্রীরা কখনও কোনও কারণে যদি ঘেরাও করে, মেনে নেবেন তিনি। প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজবেন না।