কৃষ্ণনগরে হস্টেল মারধরে আহতেরা।
কলেজের ছাত্র আবাসনে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল কলেজেরই টিএমসিপি পরিচালিত ছাত্র সংসদের নেতাদের বিরুদ্ধে। সোমবার কৃষ্ণনগর বিপ্রদাস পালচৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কলেজের ঘটনা। ওই ঘটনায় ছাত্র আবাসনের চার ছাত্র জখম হয়েছেন। তাঁদের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ য়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোন পক্ষই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেনি।
১৬টি পলিটেকনিক ও আইটিআই কলেজ নিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিল কলেজ কতৃর্পক্ষ। গত শনি ও রবিবার টুর্নামেন্ট চলে। সেখানে এই কলেজের টিম তৈরি নিয়ে ছাত্র সংসদ ও ছাত্র আবাসনের ছেলেদের মধ্যে মতবিরোধ হয়। অভিযোগ, শনিবার এই ঘটনার পরে ছাত্রাবাসের ছেলেরা কলেজের টিমকে সমর্থন না করে অন্য দলকে সমর্থন করে। এতে দু’পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই জেরে সোমবার ছাত্রাবাসের ছেলেরা কলেজে এলে তাদের কয়েক জনের উপরে ছাত্র সংসদের ছেলেরা চড়াও হয় বলে অভিযোগ। দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রকে ক্লাসের ভিতর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরও করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ কৃষ্ণনগর বিপ্রদাস পালচৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সহ একাধিক নেতার নেতৃত্বে প্রায় শ’খানেক ছাত্র বাঁশ, উইকেট নিয়ে হস্টেলে চড়াও হয়। তারা ভিতরে ঢুকে আবাসিক ছাত্রদের মারধরের পাশাপাশি ভাঙচুর চালায়। প্রথমে মার খেলেও পরে আবাসনের ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। খবর পেয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। বাধ্য হয়ে তাঁরা পুলিশ ডাকেন। বন্ধ হয়ে যায় কলেজের পঠনপাঠনও।
জাফর ইকবাল শেখ নামে মার খাওয়া ওই ছাত্র বলেন, ‘‘ওরা বারবার নানা ভাবে আমাদের হেনস্থা করছে। এ দিনও একই ভাবে আমাদের উপরে হামলা চালিয়েছে। খেলা নিয়ে তেমন কিছুই হয়নি।’’
অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক অরিত্র ঘোষ বলেন, ‘‘আমার উপরে হামলার পরে কলেজের পড়ুয়ারাই প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর সঙ্গে ছাত্র সংসদের কোনও সম্পর্ক নেই।’’ কলেজের অধ্যক্ষ নারায়ণ সাহা বলেন, ‘‘আমি কলেজে ঢোকার সময় দেখতে পাই বেশ কিছু ছাত্র লাঠি, উইকেট নিয়ে ছাত্রাবাসে হামলা চালাচ্ছে। ইটপাটকেল ছুঁড়ছে। আমরা তাদের থামাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে পুলিশ ডাকতে হয়।’’তিনি আরও বলেন,‘‘এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবে দায় এড়াতে পারে না। তবে ছাত্রদের তরফে কোনও অভিযোগ পাই কিনা দেখছি। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করব।’’ জেলার পুলিশ সুপার ভরতলাল মিনা বলেন, ‘‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’