পেট্রল ঢালার চেষ্টা।—নিজস্ব চিত্র।
গত দু’বছর ধরে কলেজে নবীনবরণ ও সোশ্যাল অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বছর দ্রুত সোস্যালের দাবিতে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী বুধবার অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান বহরমপুর কলেজের টিএমসিপির কর্মী-সমর্থকরা। এ দিন অধ্যক্ষ সমরেশ মণ্ডল কলেজে আসেননি। অসুস্থ সমরেশবাবু কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবর্তে কয়েকজন অধ্যাপক ওই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। তারপরই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই কর্মী— প্রথম বর্ষের ছাত্র জয়নাল আবেদিন ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সানসাইন বোতল থেকে পেট্রোল বার করে গায়ে ঢালেন। দাবি আদায় না হলে তাঁরা আত্মঘাতী হওয়ার হুমকি দেন। তাঁরা ইতিউতি দেশলাইয়ের খোঁজ করতে থাকেন। এরইমধ্যে কলেজের জনাকয়েক অধ্যাপক তাঁদের ক্ষান্ত করেন।
দিনকয়েক আগেও গায়ে কেরোসিন ঢালার ঘটনা দেখেছেন রাজ্যবাসী। কলকাতার নাকতলা এলাকায় হাইকোর্টে নির্দেশে একটি জমির দখল নিতে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী ভাস্কর দাম গায়ে কেরোসিন ঢেলে হুমকি দেন, পুলিশ ওই জমি দখল করলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। ওই ঘটনায় পুলিশের হাইকোর্টের তোপের মুখে পড়তে হয়। এ দিন বহরমপুর কলেজের ওই ঘটনাকে স্রেফ নাটক বলছেন বিরোধীরা। ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি সুমন দাস বলেন, ‘‘স্মারকলিপি দেওয়ার নামে টিএমসিপির কর্মীরা কলেজে গোলমাল করছে। এটা নাটক ছাড়া কিছুই নয়।’’ এ দিনের ঘটনাকে অবশ্য সমর্থন করছেন না তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র। তিনি বলেন, ‘‘বহরমপুর কলেজের ওই ছাত্রদের আচরণ কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’’