ফি বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধ থাকে। ঠিক তার আগের দিন সাধারণ ধর্মঘট থাকায় দু’বার ভাবেননি করিমপুর বাজারের ব্যবসায়ী অমৃত সাহা। ‘ছুটি’ কাটাতে মঙ্গলবার রাতেই কয়েকজন বন্ধু ও দোকানের কর্মচারীদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন সোজা দিঘায়।
পড়ে পাওয়া এমন একটি বাড়তি ছুটি কাটালেন করিমপুরের অনেকেই। সপ্তাহের মাঝখানে এমন একটি ‘ছুটি’-র দিন পেয়ে কেউ বেরিয়ে পড়েছিলেন কাছেপিঠে কোথাও ঘুরে আসতে, কেউ বা আবার মেতেছিলেন পিকনিকে। আবার কাজে যাওয়ার তাড়া না থাকায় নিজের হাতে রেঁধে খাইয়েছেন ছেলেমেয়েদের। তারিফ কুড়িয়েছেন বৌয়ের!
সাধারণ ধর্মঘটের দিন সকাল থেকেই রাস্তায় বড় গাড়ি চলতে দেখা যায়নি। বেশিরভাগ দোকান এ দিন বন্ধ ছিল। এলাকার পঞ্চায়েত, ডাকঘর ও ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলেও স্কুল ও কলেজ খোলা ছিল। সরকারি কর্মচারীদের কাজের জায়গায় উপস্থিত থাকার ফরমান জারি থাকলেও ‘ছুটি’র মেজাজে গা ভাসিয়েছিলেন বেসরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ীরা। অমৃতবাবু বলেন, “পরপর দু’দিন ছুটি সচরাচর মেলে না। তাই তিনটি ছোট গাড়ি ভাড়া করে দিঘা চলে এসেছি। শুক্রবার সকালে দোকান খুলব।”
কেউ আবার পাড়ি দিয়েছিলেন আত্মীয়দের বাড়ি। নাটনার ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ মণ্ডল জানান, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বুধবার শ্বশুরবাড়ি থাকবেন। ফিরবেন শুক্রবার। এ দিকে কাজে না যাওয়ার তাড়া থাকায় পেশায় বাসকর্মী টোকন দত্ত রান্না করে খাইয়েছেন বৌ-বাচ্চাকে। প্রতিদিন ভোরবেলায় কাজে বেরিয়ে যান তিনি। তাঁর কথায়, “সকাল সকাল মাছ কিনে এনে রান্না করে খাওয়াতে খুশি হয়েছে গিন্নি।’’ এ দিন অনেক ব্যবসায়ী পিকনিকও করেন। তাই বাজারে সব মাংসের দোকানেই উপচে পড়ে ভিড়। খাসি মাংস বিক্রেতা কাসেম মণ্ডল বলেন, “রবিবার মাংসের চাহিদা একটু বেশি থাকে। কিন্তু আজ যে এমন হবে বুঝিনি।’’ ছুটির আমেজে ছিলেন দুরপাল্লা বাসের কর্মচারীরাও। কলকাতা-করিমপুর রুটের বাসকর্মী সন্টু স্বর্ণকারের কথায়, “আজ বাড়িতে না খেয়ে বন্ধুরা সবাই পিকনিক করেছি।’’
তবে ‘ছুটি’ উপভোগ করতে না পারায় আফসোস করছেন সরকারি কর্মচারীরা। নামপ্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক বলেন, “সবাই যখন ছুটি কাটাচ্ছে তখন আমাদের স্কুলে যেতে হচ্ছে। যদিও ছাত্রছাত্রীরা না আসায় ক্লাস হয়নি।’’ করিমপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বিধান দত্ত বলেন, ‘‘যে যেভাবেই ছুটি কাটাক, ব্যবসায়ীরা সকলেই দোকান বন্ধ রেখে সাধারণ ধর্মঘটকে সমর্থন করেছেন।’’
তলিয়ে মৃত্যু। বৃষ্টিতে খালের জল বেড়েছে। সাইকেলে সেই খাল পার হতে গিয়ে জলের তোড়ে ভেসে গেলেন এক যুবক। পাত্রসায়র থানার মুকুন্দপুর গ্রাম লাগোয়া হরিণমুড়ি খালে বুধবার সন্ধ্যার ঘটনা। বৃহস্পতিবার সকালে ওই খাল থেকেই বাপি বাউরি (২৪) নামে সেই যুবকের দেহ উদ্ধার হয়।