সাধারণ সম্পাদকই হবেন কলেজের যাবতীয় অনুষ্ঠানের হোতা। তিনিই কলেজের খেলাধুলো থেকে বার্ষিক অনুষ্ঠান সব কিছুই পরিচালনা করবেন। এ ছাড়াও ছাত্র সংসদের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় কী ভাবে হবে, তাও নির্ধারণ করবেন তিনিই। এমনই সব দাবিতে বুধবার দুপুর দেড়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত শিক্ষকদের আটকে রাখল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকরা।
অবশেষে পুলিশের উপস্থিতি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের দফায় দফায় আলোচনায় বিক্ষোভ ওঠে। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভ উঠলেও স্থায়ী কোনও সমাধানসূত্র বার হয়নি। ফলে ‘অন্যায়’ দাবিতে ছাত্র অসন্তোষের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে বলে খবর।
এই ঘটনায় ডোমকলের বসন্তপুর কলেজে শিক্ষক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্পূর্ণ অন্যায় দাবিতে টিএমসিপির সমর্থকরা শিক্ষকের আটকে রেখেছে। সাধারণ সম্পাদককে অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিতে নেই। এছাড়াও বিক্ষোভকারী ছাত্ররা কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কাউন্সেলিং করার দাবি জানায়। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় অনুমতি না দিলে তা করা যায় না। ওই ছাত্ররা দ্বিতীয় কাউন্সিলিং করারও আব্দার করছে, যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়। কলেজের একটি সূত্র বলছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রউফ ইতিমধ্যে কলেজের পাঠ চুকিয়েছেন। তাই আদৌ তাঁকে ছাত্র-সংসদের সাধারণ সম্পাদক বলা যাবে কিনা, তা নিয়েই সংশয় রয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষা অনুরাধা সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘আমার পক্ষে নিয়ম ভেঙে কোনও কাজ করা সম্ভব নয়। বিক্ষোভকারী ছাত্রদের সবই দাবিই বেআইনি। গোটা বিষয়টি আমি প্রশাসন ও পুলিশকে জানিয়েছি।’’
ডোমকলের মহকুমাশাসক তাহিরুজ্জামান বলেন, ‘‘ওই কলেজে ঠিক কী হয়েছে, তা বলতে পারব না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি। ঘটনাটি আমার গোচরে আসতেই পুলিশকে দেখতে বলেছি।’’ জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকারের দাবি, ‘‘গত বছর কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কলেজেই ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়নি। ফলে কলেজ-পর্ব চুকলেও রউফ সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই রয়েছেন। তার মাধ্যমেই কলেজের যাবতীয় অনুষ্ঠান করতে হবে।’’