‘ফাগুন রাতের গপ্পো’ দিয়ে শেষ হল রঙ্গপীঠ নাট্যমেলা

২৫ ডিসেম্বরের সন্ধ্যা, ২০১৫। জনজোয়ারে প্লাবিত হল শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরির মাঠ। রবীন্দ্রভারতী রেপার্টরি থিয়েটারের জনপ্রিয় নাটক ‘ফাগুন রাতের গপ্পো’ অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হল দ্বাদশ রঙ্গপীঠ নাট্যমেলা। সন্ধ্যা নামতেই লাইনে কয়েকশো লোক।

Advertisement

কৌশিক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:২৩
Share:

২৫ ডিসেম্বরের সন্ধ্যা, ২০১৫। জনজোয়ারে প্লাবিত হল শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরির মাঠ। রবীন্দ্রভারতী রেপার্টরি থিয়েটারের জনপ্রিয় নাটক ‘ফাগুন রাতের গপ্পো’ অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হল দ্বাদশ রঙ্গপীঠ নাট্যমেলা। সন্ধ্যা নামতেই লাইনে কয়েকশো লোক। টিকিটের জন্য হাহুতাশ, উদ্যোক্তাদের ক্ষমা-প্রার্থনা, বন্ধ গেটের পিছনে ভিড় করে থাকা কয়েকশো মানুষের উৎসুক মুখ প্রমাণ করল শান্তিপুর নাটকের শহর। দেশ বিদেশের প্রতিটি নাটকের দল কুর্নিশ জানাল শান্তিপুরের দর্শকদের। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ন’দিনের এই নাট্যোৎসবে নাটক চলাকালীন বাজল না মোবাইল ফোন। মেলা শুরু হয়েছিল ১৭ ডিসেম্বর, শারীরিক ও মানসিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের অনুষ্ঠান দিয়ে। উইংস থিয়েটার অসমের গুয়াহাটি থেকে এসে ছিলেন তাঁদের প্রযোজনা ‘হেলেন’ নিয়ে। হেলেন কেলারের জীবন নিয়ে নির্মিত এই প্রযোজনা দর্শদের সাধুবাদ কুড়িয়েছে। হেলেনের অন্ধ, বধির, বোবা জীবনের জান্তব অসহায়তা এবং শিক্ষিকা অ্যান সুলিভানের আপ্রাণ চেষ্টায় বুঝতে পারা শব্দের রহস্য, অসাধারণ দক্ষতায় মঞ্চে ফুটিয়ে তুললেন নাটককার, নির্দেশক কিসমত বানো। একটি প্রশ্ন শুধু রয়ে গেল। এ নাটকে অ্যান সুলিভান কে প্রথম থেকেই অন্ধ দেখলাম। হেলেনের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার সময় সত্যিই কি অন্ধ ছিলেন সুলিভান?

Advertisement

গম্ভীরা শিল্পীর যন্ত্রণা ধরা পড়ল মালদহ মালঞ্চের প্রযোজনা ‘গম্ভীরা গম্ভীরা’ নাটকে। নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন পরিমল ত্রিবেদী। রঙ্গপীঠের নিজস্ব প্রযোজনা ছিল রবীন্দ্রনাথের জীবিতমৃত অবলম্বনে ‘জীবনমৃত্যু’। বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের নির্দেশনায় এই নাটক দর্শকদের বাহবা কুড়িয়েছে। তেমনি অভিনন্দিত হয়েছে ত্রিপুরারি শর্মার নির্দেশনায় দিল্লির উর্জা প্রযোজিত নাটক ‘স্ত্রী সুবোধিনী’, ব্যান্ডেল আরোহীর ‘ওহ মাই গড’, বালিগঞ্জ ব্রাত্যজনের ‘অর্ধাঙ্গিনী’, নাট্য চেতনা ওড়িশার ‘আবু’, ঝাড়গ্রাম কথাকৃতির ‘তবুও ভীষ্ম’ প্রভৃতি। প্রতিবেশী বাংলাদেশের নাট্যলোক এনেছিল তাদের জনপ্রিয় প্রযোজনা ‘ধীবর গাঁথা’।

দ্বাদশ নাট্যমেলায় রঙ্গপীঠ ছাড়াও স্থানীয় দল হিসেবে শান্তিপুর সাজঘর যোগ দিয়েছিল তাদের দুটি প্রযোজনা নিয়ে। কল্যাণী কলামণ্ডলম ‘মলুয়া সুন্দরীর পালা’, আত্মজ সিউড়ির ‘অরূপকথা’, পুনের ধ্যাস প্রযোজনা ‘দ্যা ট্রান্সপারেন্ট ট্র্যাপ’, কোচবিহার থিয়েটার ইউনিটের ‘পরপারে’। নাট্যমেলায় কালিয়াগঞ্জের অনন্য থিয়েটারের প্রযোজনা ‘চরণদাস চোর’ এবং রাঁচি এক্সপোজার অভিনীত ‘জিস লাহোর নেহি দেখা ও জন্মায় নেহি’ দেখতে দেখতে অনেকের স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে হাবিব তনভীরের প্রযোজনার কথা। অঙ্গন মঞ্চে রজত দাসের নির্দেশনায় কাঁচরাপাড়া চেনা আধুলি তাদের ‘বাঘারে’ নাট্য প্রযোজনার মাধ্যমে বাঘেদের পোষ মানানোর গল্প বলে মুগ্ধ করেছেন। বাঘের ভূমিকায় গৌরী দাসের অভিনয় তাঁর ক্ষমতাকে চিনিয়েছে।

Advertisement

একযুগ পেরিয়ে এসে রঙ্গপীঠের এই নাট্যোৎসবের চেষ্টায় শুধু এ রাজ্য নয়, অন্য দেশের নাটকও দেখতে পাচ্ছেন মানুষ। শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরির স্থায়ী নির্মলেন্দু লাহিড়ী মঞ্চ, অস্থায়ী শম্ভু মিত্র মঞ্চ, অঙ্গনে বাদল সরকার মঞ্চ এবং লালন ফকিরের আখড়া। এই চার মঞ্চে নানা স্বাদের গান, নাটক মানুষকে টেনে এনেছে তার শরিক হতে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement