ব্যাঙ্কক যাওয়ার পথে অদ্রিজার বাধা অনটন

ছোট থেকে ধ্যান-জ্ঞান ছিল নাচ। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ছেদ পড়েনি নাচের প্রশিক্ষণে। স্বপ্ন ছিল বিদেশে নাচের অনুষ্ঠানে যাওয়া। এত দিনে সেই স্বপ্নপূরণের সুযোগ হাতের কাছে এলেও আর্থিক কারণে তা ভেস্তে যেতে বসেছে চাকদহের অদ্রিজার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৪১
Share:

অদ্রিজা সেন।— নিজস্ব চিত্র।

ছোট থেকে ধ্যান-জ্ঞান ছিল নাচ। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ছেদ পড়েনি নাচের প্রশিক্ষণে। স্বপ্ন ছিল বিদেশে নাচের অনুষ্ঠানে যাওয়া। এত দিনে সেই স্বপ্নপূরণের সুযোগ হাতের কাছে এলেও আর্থিক কারণে তা ভেস্তে যেতে বসেছে চাকদহের অদ্রিজার।

Advertisement

আগামী ২৬-৩০ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে ‘গ্লোবাল কাউন্সিল অফ আর্ট অ্যান্ড কালচার’-এর উদ্যোগে পঞ্চম কালচারাল অলিম্পিয়াড অফ পারফর্মিং আর্ট নামে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আসর বসবে। সেই অনুষ্ঠানের জন্যে আমন্ত্রণ এসেছে নদিয়ার চাকদহের কেবিএমের বাসিন্দা অদ্রিজা সেনের। আমন্ত্রণ তো এল, মেয়েকে সেখানে পাঠাবেন কী করে? তা ভেবে আর তল পাচ্ছেন না সোনার দোকানের সামান্য বেতনের কর্মী অদ্রিজার বাবা সুবীরকুমার সেন। স্বপ্নপূরণের সুযোগ মিলবে তো, সংশয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীও।

শিয়ালদহ-রানাঘাট শাখার পালপাড়া স্টেশনের পূর্বদিকে আধ কিলোমিটার দূরে চাকদহ পুরসভার ৮১১ নম্বর কেবিএম এলাকায় বাড়ি অদ্রিজাদের। সুবীরবাবু কলকাতার একটি সোনার দোকানে কাজ করেন। মা গীতাদেবী গৃহবধূ। গীতাদেবী জানালেন, মেয়ের স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনটন। তিনি বলেন, ‘‘ব্যাঙ্ককে যাওয়া-আসা রেজিস্ট্রেশন ও অন্য খরচ মিলিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ।’’ এত টাকা কী ভাবে জোগার হবে, তা নিয়ে সংশয়ে সুবীরবাবুও। তাঁর কথায়, ‘‘সংসার চালানোর জন্য অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়। মাঝে মধ্যে রাতে বাড়ি ফিরতে পারি না!’’

Advertisement

কৃতী মেয়ের স্বপ্নপূরণে জন্যে সেন দম্পতি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, ‘‘সহৃদয় কেউ এগিয়ে না এলে মেয়ের প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়া এক কথায় অসম্ভব।’’ পরিবার সূত্রে খবর, ব্যাঙ্ককের অনুষ্ঠান আগামী ২৬ ডিসেম্বর শুরু হবে। পর দিন, ২৭ ডিসেম্বর অদ্রিজার অনুষ্ঠান। তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ২৫ তারিখে সেখানে পৌঁছতে হবে।

আড়াই বছর বয়সে নাচে হাতেখড়ি অদ্রিজার। এখন কল্যাণীর অমল সরকার এবং কলকাতার নন্দিতা দেবের কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে অদ্রিজা। তিন বছর এক মাস বয়সে কল্যাণী বিদ্যাসাগর মঞ্চে তার প্রথম নাচের অনুষ্ঠান হয়। আর পিছনে তাকাতে হয়নি। এলাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে জেলা, রাজ্যের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতায় সুযোগ মিলতে থাকে। অদ্রিজা বাংলাদেশে গিয়ে নাচের অনুষ্ঠান করেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ পুনায় এক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় যোগ দেয় সে। অসমের বিহু নেচে দ্বিতীয় হয়েছিল।

সেখান থেকেই বিদেশে যোগ দেওয়ার সুযোগ এসেছে অদ্রিজার। লেখাপড়া আর নাচ তো রয়েছেই, পাশাপাশি ছবি আঁকা, খো-খো খেলা, রাত জেগে ক্রিকেট খেলা দেখার নেশাও রয়েছে অদ্রিজার। দিনে অন্তত ঘণ্টা দু’য়েক অনুশীলন করে সে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement