নাটকের মহড়ায় ব্যস্ত খুদেরা। —নিজস্ব চিত্র
খুদে পড়ুয়াদের হল্লা-চিল্লা, হরেক সংলাপে মুখরিত বহরমপুর।
হাতে আর একটা দিন। সোমবার দুপুর দু’টো থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টায় সাতটি নাটক মঞ্চস্থ করার ভার যে ওই পড়ুয়াদেরই! বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে ওই অনুষ্ঠান হবে। ফলে বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সঙ্গে নাটকের মহড়াও চলছে জোরকদমে।
‘বহরমপুর গাঙচিল’- এর সুবাদে শহরের উত্তর প্রান্তের মণীন্দ্রচন্দ্র বিদ্যাপীঠ থেকে শুরু করে দক্ষিণ প্রান্তের আইসিআই স্কুল পার করে শেষবেলার নাট্য-মহড়ার মৌতাত পৌঁছেছে হরিহরপাড়ার ভজরামপুর গ্রামের ‘মোনার্ক স্কুল অব হিউম্যান এক্সিলেন্স’ পর্যন্ত। উল্লেখযোগ্য তথ্য, ওই স্কুলের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজিতে মঞ্চস্থ করবে নাটক ‘হ্যাপি প্রিন্স’।
বহরমপুর গাঙচিল তাদের প্রথম বর্ষ নাট্যোৎসবের নাম দিয়েছে ‘ছোট-বড় মিলে’। এমন নামকরণের কারণ লুকিয়ে হরেক বয়সে। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণির মোট ৮০ জন ছাত্রছাত্রীরা এই নাট্যোৎসবের সাতটি নাটকের পাঁচটি মঞ্চস্থ করবে। বাকি দু’টি নাটকের একটি কলকাতার ‘অন্তর্মুখ’- এর ‘কার কপালে’। অন্যটি বহরমপুরের পথনাটকের সংস্থা ‘ব্রীহি’র মুক্তমঞ্চের প্রযোজনা আলকাপ অঙ্গের ‘মনের ব্যাধি’। আগামী পরশু, সোমবার দুপুর দু’টোয় বহরমপুর রবীন্দ্রসদন মঞ্চে নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করবেন কলকাতার ‘অন্তর্মুখ’-এর কর্ণধার সৌমিত্র বসু।
সাইকেলে প্রথম ভারত ভ্রমণ করেছিলেন বহরমপুরের ভূমিপুত্র দিলীপ মুখোপাধ্যায়। বহরমপুরের দু’টি নাট্যসংস্থা, ‘রঙ্গাশ্রম’ ও ‘বহরমপুর রেপার্টরি থিয়েটার’-এর তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এ দিনের নাট্যোৎসবে কোচবিহারের ‘কম্পাস’ নাট্যসংস্থার পরিচালক দেবব্রত আচার্যকে ‘দিলীপ মুখোপাধ্যায় স্মৃতি সম্মান’- এ ভূষিত করা হবে।
স্কুল পড়ুয়াদের নাটকের মধ্যে রয়েছে দেবব্রত আচার্য লিখিত, রাহুল দেবঘোষ নির্দেশিত নাটক ‘দুষ্টু দরজি’। মঞ্চস্থ করবে অগ্রগতি শিক্ষা নিকেতনের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির খুদেরা। মোনার্ক স্কুল অব হিউম্যান এক্সিলেন্স’- এর ইংরাজি নাটক ‘হ্যাপি প্রিন্স’ দিয়ে নাট্যোৎসব শুরু। গোরাবাজার আইসিআই স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা মঞ্চস্থ করবে প্রদীপ ভট্টাচার্য লিখিত ও রাহুল দেবঘোষ নির্দেশিত ‘কেলোর কীর্তি। খাগড়ার জিটিআই স্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের অভিনীত নাটক ‘চাঁদ সদাগর’-এর নাট্যকার প্রদীপ ভট্টাচার্য। নির্দেশক রাহুল দেবঘোষ। কাঠমাপাড়ার ‘যুবসাথী সেবা সমিতি’র উদ্যেগে ‘মেরি ইমাকুলেট স্কুল’, জিটিআই এবং মণীন্দ্রচন্দ্র বিদ্যাপীঠের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের প্রচেষ্টার প্রযোজনা ‘বাঘবন্দি খেলা’ মঞ্চস্থ হবে। নাটকের লেখক ও নির্দেশক সন্দীপ বাগচী।
এ ভাবে খুদে পড়ুয়াদের দিয়ে নাট্যাভিনয়ের ভাবনার সূত্রপাত ১৯৮৯ সালে। ‘বহরমপুর গাঙচিল’-এর কর্ণধার রাহুল দেবঘোষ তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। প্রায় আড়াই দশক আগের কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুলের হলঘরের একটি ঘটনার কথা জানালেন তিনি। রাহুলের কথায়, প্রদীপ ভট্টাচার্যের উদ্যোগে সেখানে ২৫-৩০ জন স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে এক মাস ধরে নাটকের কর্মশালা চলেছিল। ‘বহরমপুর রেপার্টরি থিয়েটর’ এবং দিল্লির ‘ন্যাশানাল স্কুল অব ড্রামা’র যৌথ উদ্যোগের ওই কর্মশালা থেকেই আজকের দিনের বেশ কয়েকজন নাট্যব্যক্তিত্বের জন্ম। সে দিনের সাফল্য এই প্রজন্মের পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণে উৎসাহ যুগিয়েছে।
বহরমপুর গাঙচিলের কর্মকর্তারা জানালেন, প্রকল্প সফল করতে মুর্শিদাবাদের নাট্যব্যক্তিত্ব ছাড়াও কোচবিহার থেকে দেবব্রত আচার্য এবং কল্যাণী থেকে অয়ন জোয়ারদার বহরমপুরে এসে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সবার সহযোগিতার ফসল প্রথম বছরের ‘ছোট-বড় মিলে’ নাট্যোৎসব।