শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল

রাতারাতি উধাও সেই গ্যারাজ

শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে দুষ্কৃতীরাজ ও সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় সরাসরি পুলিশকেই দায়ী করলেন কৃষ্ণনগরের পুরপ্রধান তৃণমূলের অসীম সাহা। হাসপাতাল চত্বরে বেআইনি গ্যারাজ ও দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে অভিযোগ উঠছিলই।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৫ ০১:২৯
Share:

উধাও গ্যারাজ। ইনসেটে, সাইকেল ও মোটর সাইকেল রাখার বিজ্ঞাপন দিয়ে বুধবারেও দেখা গিয়েছিল এই ফেস্টুন। —নিজস্ব চিত্র।

শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে দুষ্কৃতীরাজ ও সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় সরাসরি পুলিশকেই দায়ী করলেন কৃষ্ণনগরের পুরপ্রধান তৃণমূলের অসীম সাহা। হাসপাতাল চত্বরে বেআইনি গ্যারাজ ও দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে অভিযোগ উঠছিলই। বুধবার দুপুরে ওই গ্যারাজে থাকা দুষ্কৃতীরা চিত্র সাংবাদিক প্রণব দেবনাথকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পরে প্রশ্ন ওঠে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও। তবে বৃহস্পতিবার শাসক দলের পুরপ্রধান অসীমবাবুও কোনও প্রশ্ন নয়, রীতিমতো তোপ দাগলেন পুলিশের বিরুদ্ধে।

Advertisement

এ দিন হাসপাতালের ঘটনা নিয়ে অসীমবাবুর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘ওই চিত্র সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা তো পুলিশের ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ করে। পুলিশের প্রশ্রয়েই ওদের এত বাড়বাড়ন্ত। আমার তো সন্দেহ হচ্ছে ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ আদৌ কোনও কড়া পদক্ষেপ করবে কিনা। চার্জশিটে পুলিশ কী লেখে সেটা এখন দেখতে হবে।’’ তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে চন্দন বিশ্বাস ও হারান শেখের ওই গ্যারাজেই এলাকার দুষ্কৃতীরা আড্ডা দেয়, মদ খায়। দুষ্কৃতীদের সঙ্গে তাদের ভাল সম্পর্ক আছে। পুরসভার পক্ষ থেকেও বিষয়টি পুলিশকে মৌখিক ভাবে একাধিক বার জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কিছুই করেনি।

হাসপাতাল সূত্রে এ দিন আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য জানা গিয়েছে। বেআইনি ওই গ্যারাজটি যারা এতদিন ধরে চালাচ্ছিল সেই চন্দন ও হারান শক্তিনগর হাসপাতালেই নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কাজ করে। বৃহস্পতিবার তাদের এক সহকর্মী বলেন, ‘‘সকালের দিকে ওরা একবার হাসপাতালে এসেছিল। তারপর খবরের কাগজে তাদের সম্পর্কে লেখা দেখেই এখান থেকে সরে পড়ে।’’ হাসপাতালের কর্মীদের একাংশের কটাক্ষ, এ তো দেখা যাচ্ছে রক্ষকই ভক্ষক! যারা হাসপালের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছে তারাই আবার বেআইনি ভাবে গ্যারাজ চালাচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, ‘‘আমরা না হয় ভয়ে সব জেনেও মুখ খুলতে পারতাম না। কিন্তু পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কীসের ভয়ে চুপ ছিল?’’

Advertisement

বুধবার, ঘটনার পরে হাসপাতালের সুপার হিমাদ্রি হালদার জানিয়েছিলেন, এ দিনই তিনি প্রথম ওই গ্যারাজের কথা জানতে পেরেছেন! কিন্তু ওই গ্যারাজের মালিকেরাই যে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে সেটাও কি সুপার জানতেন না? বৃহস্পতিবার হিমাদ্রিবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘‘হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়োগ করে একটি ঠিকাদারি সংস্থা। তারা কাদের নিয়োগ করে সেটা সত্যিই আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি যখন জানতে পেরেছি তখন ওই দু’জনের বিষয়ে ঠিকাদারি সংস্থার কাছে জানতে চাইব।’’

এ দিন সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ‘এখানে সাইকেল, মোটরসাইকেল রাখা হয়’ লেখা সেই ফেস্টুন উধাও। গেটের সামনে সেই একই জায়গায় সাইকেল, মোটরসাইকেল রাখলেও এ দিন কাউকে টাকা দিতে হয়নি। সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালের কর্মী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে গ্যারাজের বিষয়ে কথা বলেন। বুধবার ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাই ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ মহিবুল শেখ ও রাজেশ শেখ নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষ্ণনগর প্রেস ক্লাব ও ডব্লিউবিইউজেএ এর পক্ষ থকে দোষীদের শাস্তি ও শহরের শান্তি শৃঙ্খলার দাবিতে জেলার পুলিশ সুপার ভরতলাল মিনাকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘ধৃতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পলাতক অন্য অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।’’ পুরপ্রধান এ দিন যে অভিযোগ তুলেছেন সেই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে পুলিশ সুপারের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এই বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি।’’

পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করছেন বিরোধীরাও। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এস এম সাদি বলেন, ‘‘পুলিশমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। ফলে তাঁর রাজত্বে এর থেকে বেশি আর কী-ই বা আশা করা যেতে পারে!’’ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি অসীম সাহার প্রতিক্রিয়া, ‘‘শাসক দলের পুরপ্রধানই যখন এমন অভিযোগ তুলছেন তখন বাস্তব পরিস্থিতি যে কতটা ভয়ঙ্কর সেটা কি আর বলার প্রয়োজন আছে?’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement