অনার্সের বিষয়ে ভাল ভাবে কৃতকার্য হয়েছেন। অনেকে আবার ৬০ শতাংশের উপরে নম্বর পেয়েছেন। কিন্তু পাশের বিষয়ে ডাহা ফেল। পাশের বিষয় হিসেবে কলেজের বেশির ভাগ পড়ুয়াই সমাজবিদ্যা নিয়েছিলেন। কিন্তু ৮০ শতাংশ পড়ুয়ারই সমাজবিদ্যায় অনুত্তীর্ণ হন। পড়ুয়াদের দাবি, ওই বিষয়ে সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে ফরাক্কার সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজে বিক্ষোভ দেখালেন দ্বিতীয় বর্ষের অনুত্তীর্ণ শতাধিক পড়ুয়া। বিক্ষোভের মধ্যেই পড়ুয়াদের সঙ্গে বহিরাগত কয়েকজন যুবকের আচমকা ঝামেলা বেঁধে যায়। দু’পক্ষের সংঘর্ষে ছ’জন পড়ুয়া মার খান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে বিষয়টি বিবেচনার জন্য কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ উঠে যায়।
এ দিন সকাল ১১টা থেকে এই ছাত্র বিক্ষোভের জেরে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা অত কম নম্বর পেতে পারেন না। এরই মধ্যে স্থানীয় কিছু যুবক কলেজে ঢোকে। তারপর তারা বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ এলে ওই যুবকেরা চম্পট দেয়। পড়ুয়ারা পুলিশের কাছে মারধরের অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ জানায়, ওই যুবকরা কলেজের আশপাশের বাসিন্দা। কলেজের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা এই ছাত্র বিক্ষোভকে কলেজ-কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধাচারণ ভেবে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চড়াও হয়েছে। ওই কলেজের অধ্যক্ষ ছুটিতে থাকায় কলেজের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক সুতপা দত্ত। তিনি বলেন, ‘‘অনার্সের ৮০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী পাশের বিষয় হিসেবে সমাজবিদ্যায় ফেল করতে পারে না। এটা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।’’ অথচ, এর জন্য পড়ুয়াদের এক বছর নষ্ট হবে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরে আনা হয়েছে। পুনরায় খাতা দেখার জন্য আবেদন করা হয়েছে।