DA West Bengal

বকেয়া ডিএ প্রদানের উদ্যোগ, এসওপি জারি, ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি দিতে পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগ

বৃহস্পতিবার জারি হওয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, কী ভাবে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এইচআরএমএস) মডিউলের মাধ্যমে বকেয়া ডিএ বিল প্রস্তুত ও নিষ্পত্তি করবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫০
Share:

প্রথম কিস্তির ডিএ দিতে তৎপরতা নবান্নে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অর্থ দফতরের ই-গভর্ন্যান্স শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবারসিং অফিসার্স (ডিডিও)-দের জন্য নির্দিষ্ট আদর্শ কার্যপদ্ধতি (এসওপি) জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, কী ভাবে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এইচআরএমএস) মডিউলের মাধ্যমে বকেয়া ডিএ বিল প্রস্তুত ও নিষ্পত্তি করবে।

Advertisement

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অর্থ দফতরের পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-এর হিসাব এইচআরএমএস সিস্টেমে নির্ধারিত হবে। সেই অনুযায়ী ডিডিও-রা সংশ্লিষ্ট বিল প্রস্তুত করবেন এবং তা নির্দিষ্ট ‘হেড অফ অ্যাকাউন্টে’র আওতায় ‘ড্র’ করতে হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বকেয়া অর্থ সরাসরি কর্মীদের ‘জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড’ (জিপিএফ) অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

প্রত্যেক কর্মীর জন্য পৃথক ভাবে ‘এরিয়ার স্টেটমেন্ট’ এইচআরএমএস পোর্টালে থাকবে, যা ডিডিও-রা এরিয়ার/সাপ্লিমেন্টারি হয়ে টাস্কলিস্টে মেনু থেকে দেখতে পারবেন। এই স্টেটমেন্টের ‘ইন্সটলমেন্ট ডিটেলস’ অংশে প্রতিটি কর্মীর প্রাপ্য বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ দেখানো হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের পর ডিডিও-রা ‘জেনারেট বিল’ অপশনের মাধ্যমে বিল তৈরি করতে পারবেন।

Advertisement

এ ছাড়াও, তৈরি হওয়া বিল ‘বিল সামারি’ মেনুতে দেখা যাবে। কোনও কর্মী বাদ পড়লে বা পরে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে তার জন্য আলাদা তালিকাও থাকবে, যেখান থেকে পরবর্তী সময়ে বিল জেনারেট করা সম্ভব। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও পর্যায়ক্রমিক ভাবে সম্পন্ন করা যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। আরও জানানো হয়েছে, প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের জন্য টিআর ফর্ম-৪৭ স্বয়ংক্রিয় ভাবে তৈরি হবে। অন্য দিকে, গ্রুপ ডি কর্মী ও প্রাক্তন কর্মীদের ক্ষেত্রে এই অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে এবং তার জন্য এইচআরএমএস-এ উপভোক্তা তালিকা তৈরি করা হবে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে কর্মীদের বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশাসনিক অগ্রগতি হিসাবে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে অর্থপ্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই এসওপি জারি করা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সরকারি কর্মচারী ছাড়াও ডিএ পাওয়ার কথা রাজ‌্যের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, সরকার অনুমতি স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদান প্রাপ্ত সংস্থাগুলির কর্মী এবং পেনশনভোগীদের। কিন্তু বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডলের অভিযোগ, শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার জন্য এসওপি, কিন্তু শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, অধিগৃহীত সংস্থার কর্মী ও গ্রান্ট ইন এইড-এর আওতায় যাঁরা আছেন তাঁদের ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। এই ধরনের কর্মীরা নির্বাচনের আগে আদৌ টাকা পাবেন তো, এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। যদিও এ প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কো-অরডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী এই বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্যের অর্থসচিব প্রভাত মিশ্রকে একটি চিঠি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সমাজমাধ্যমে যে পোস্টটি করেছিলেন, তাতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, সরকার অনুমতি স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির কর্মীদের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের রোপা-২০০৯ অনুযায়ী ডিএ বকেয়া মার্চ ২০২৬ থেকে দেওয়া শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘‘আমরা বরাবর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থাশীল। তিনি যে সরকারি কর্মচারী দরদি, তা বহুবার প্রমাণ দিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে পোর্টাল চালু করে ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে, আগামী দিনে সবাই নিজেদের প্রাপ্য পাবেন বলেই আমরা আশা করছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement