বেলডাঙায় অশান্তি। — ফাইল চিত্র।
এ বার মুর্শিদাবাদ জেল থেকে নিজেদের এসকর্ট দিয়ে অভিযুক্তদের কলকাতায় আনতে চায় বলে আদালতে জানাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। আদালতে তাঁদের অভিযোগ, বেলডাঙা মামলায় অভিযুক্তদের এসকর্ট দিয়ে কলকাতায় আনতে ‘অনীহা’ রয়েছে পুলিশের। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। তাই নিজেরাই এসকর্ট নিয়ে তাঁদের আদালতে আনতে চায়। রাজ্য পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, জেলায় একাধিক আইনশৃঙ্খলার কাজ থাকায় এসকর্ট দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী মিলছে না।
বৃহস্পতিবার তৃতীয় বার বেলডাঙার ঘটনায় অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ ছিল। কিন্তু আগের দুই শুনানির মতো বৃহস্পতিবারও অভিযুক্তদের হাজির করানো যায়নি।
এনআইএ বৃহস্পতিবার আদালতে জানিয়েছে, তদন্ত এগোচ্ছে না। হাইকোর্টে স্টেটাস রিপোর্ট দিতে হবে। তাই অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এর আগের শুনানিতেও রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল এনআইএ। এ বার তারা সওয়াল করে জানিয়েছে, রাজ্যের পুলিশে আস্থা নেই তাদের। জেলা পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, জেলায় একাধিক আইনশৃঙ্খলার কাজে পুলিশ নিযুক্ত। তাই পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকায় এসকর্ট দেওয়া যাচ্ছে না। তার পরেই এনআইএ-র তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ এলেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর এসকর্ট দিয়ে বহরমপুর আদালত থেকে অভিযুক্তদের কলকাতায় নিয়ে আসতে প্রস্তুত তারা।
এনআইএর আইনজীবী শ্যামল ঘোষ সওয়াল করে জানান, তাঁরা আদালতের আগের দিনের নির্দেশ পুলিশ সুপারকে জানিয়েছিলেন। কেস রেকর্ড চাওয়া হয়েছিল। জেলা পুলিশ তথ্য দেয়নি। তাঁর সওয়াল, ‘‘সাত জন অভিযুক্তকে আমরা নিজেদের হেফাজতে নিতে চাই। আমরা যে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছি, তার ভিত্তিতে আমরা এই আবেদন করছি।’’ তার পরেই এনআইএর তরফে সওয়ালে বলা হয়, ‘‘আপনি আদেশ দিন। আমরাই গিয়ে জেল থেকে অভিযুক্তদের নিয়ে আসতে পারি।’’
এর আগে শুনানির সময় কলকাতা বিচারভবনে অভিযুক্তদের হাজির করানো যায়নি। সেই নিয়ে রাজ্যপুলিশের দিকে আঙুল তুলেছিল এনআইএ। তার পরে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করাতে হবে। এসকর্ট দিতে হবে রাজ্য পুলিশকে। তার পরে বৃহস্পতিবারও অভিযুক্তদের শুনানিতে হাজির করানো যায়নি।
ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বাঙালি হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে আলাউদ্দিনকে। যদিও ঝাড়খণ্ডের পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রাথমিক ভাবে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলেই দাবি করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে ১৬ তারিখ জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি, বিক্ষোভে ব্যাহত হয় শিয়ালদহ-লালগোলা ট্রেন চলাচলও। বেলডাঙায় সে দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। প্রথম দিন পুলিশ বিক্ষোভ সরালেও পরের দিন সকাল থেকে বেলডাঙা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরে আদালতে দাবি করেছে, বেলডাঙার প্রথম দিনের বিক্ষোভ কিছুটা হলেও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু দ্বিতীয় দিন পরিকল্পিত ভাবে সেখানে অশান্তি করা হয়।
হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারবে রাজ্য। তার পরেই তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।