—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
‘‘আইন মেনে নতুন করে নম্বর প্লেট তৈরি করানো তো অনেক ঝক্কির। থানা-পুলিশের ঝামেলা কেন পোহাতে যাবেন? গাড়িরনম্বর প্লেটের ছবি মোবাইলে শুধু পাঠিয়ে দিন আমাকে। বিকেলে টাকা নিয়ে যেখানে আসতে বলব, সেখানে এসে নম্বর প্লেট নিয়ে যাবেন। হুবহু এমন নম্বর প্লেট বানাব যে, পুলিশও দেখে ধরতে পারবে না।’’
মোটরবাইকের হলে দু’টি নম্বর প্লেট ৩০০ টাকা। গাড়ির হলে টাকার অঙ্ক ৬০০। টাকা দিলেই পাওয়া যাচ্ছে ভুয়ো নম্বর প্লেট।কোনও রকম নথি ছাড়াই। শহরের ভিতরেই গাড়ি মেরামতির ব্যবসার আড়ালে রমরমিয়ে চলছে এই বেআইনি চক্র। শিয়ালদহ সংলগ্ন মল্লিকবাজার এবং ওয়েলিংটনে গিয়ে একটু দরদাম করলেইহাতে চলে আসছে হুবহু ভুয়ো নম্বর প্লেট। শুধু তা-ই নয়, টাকার বিনিময়ে বদলে ফেলা হচ্ছে গাড়ির ইঞ্জিন (শ্যাসি) নম্বরও।
মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুনেরঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে একটি মোটরবাইক এবং গাড়ির হদিস পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বুধবার মধ্য রাতে আততায়ীরা প্রথমে ওই গাড়িতে করে চন্দ্রনাথের গাড়ির পিছু নেয়। খানিক বাদে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্যকরে গুলি চালানোর পরে ওই গাড়ি থেকে নেমে দু’টি বাইকে চেপে তারা চম্পট দেয় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সেই গাড়ি এবংবাইকের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। গাড়ি ও বাইকের নম্বর প্লেট খতিয়ে দেখে পুলিশ জানিয়েছে, সেগুলি ভুয়ো। অভিযুক্তেরা নিজেদের পরিচয় গোপন করতেই গাড়ি এবং বাইকে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের একাংশের অভিমত।
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়ির নম্বর এবং ইঞ্জিন (শ্যাসি) নম্বরের সঙ্গে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংযুক্ত থাকে। কোনও গাড়ির নম্বর প্লেটেরপাশাপাশি শ্যাসি নম্বর যাচাই করেই সেটির নির্মাতা, বৈশিষ্ট্য, কেনাবেচার ইতিহাস এবং মালিক সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য মেলে। অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারেরা জানাচ্ছেন, শ্যাসি নম্বরের আর এক নাম ‘ভেহিক্ল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’ বা ভিআইএন। ১৭ সংখ্যার এই ভিআইএন আদতে একটি ‘আলফানিউমেরিক কোড’, যা প্রতিটি গাড়ির ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র হয়। অনেকটা মানুষের আঙুলের ছাপের মতো। তাই প্রতিটি গাড়ি এবং বাইকের ভিআইএন আলাদা হয়। এটি সাধারণত চালকের পাশের ড্যাশবোর্ডে, দরজার ফ্রেমে বা হুডের নীচে খোদাই করা থাকে। বাইকের ক্ষেত্রে খোদাই করা থাকে ইঞ্জিনের নীচের অংশে।
জানা যাচ্ছে, নম্বর প্লেট নষ্ট হয়ে গেলে বা বদলানোর প্রয়োজন হলে নিকটবর্তী থানায় জেনারেলডায়েরি (জিডি) করতে হয়। সেই জিডি-র প্রতিলিপি ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের নথি নিয়ে ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন জানাতে হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই পুরনো নম্বর প্লেটের বদলে নতুন নম্বর প্লেট মেলে। যদিও এই নিয়মের তোয়াক্কা না-করেই শহরে চলছে বেআইনি নম্বর প্লেটের রমরমা। পুলিশ সূত্রের খবর, শহরের একাধিক জায়গায় নম্বর প্লেট বদলের ব্যবসা চলে। পুলিশ-প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন এই কাজ চললেও কোনও পদক্ষেপ করা হয় না বলে অভিযোগ।
পুলিশেরই বক্তব্য, নম্বর প্লেট বদলে সেই গাড়ি নিয়ে অপরাধ সংঘটিত করার একাধিক উদাহরণ রয়েছে। কসবার একটি ঘটনায় কয়েক মাস আগে এমনই একটি চক্রের হদিস মিলেছিল। কিন্তু ইঞ্জিন নম্বর বিকৃত করে এমন অপরাধ সংঘটিত করার ঘটনা প্রায় নজিরবিহীন। কার্যত কোনও নজরদারি না থাকায় বেআইনি এই চক্রের জাল ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। লালবাজার যদিও নজরদারি না-থাকার অভিযোগমানছে না। এক কর্তার কথায়, ‘‘মাঝেমধ্যেই অভিযান চালানো হয়। তাতে চক্রের একাধিক জন গ্রেফতারও হয়েছে।’’
কিন্তু তার পরেও প্রকাশ্যে এই কারবার চলছে কী করে? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে