পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যেরা। — নিজস্ব চিত্র।
ওড়িশায় আবার বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ। পরিবারের দাবি, ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফিরছিলেন ১৭ জন। বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁদের সকলকে ওড়িশা পুলিশ আটক করেছে। আটকের কথা চাউর হতেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে মালদহে।
কাজের সূত্রে ওড়িশা যাওয়া ওই ১৭ জনের বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা এলাকায়। শ্রমিক পরিবারগুলির অভিযোগ, জেনেবুঝে হেনস্থা করা হচ্ছে। আটক হওয়া এক পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রীর কথায়, ‘‘বাংলায় কথা বলার অপরাধে ওদের আটকে রাখা হয়েছে।’’
তৃণমূলের দাবি, এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির রাজনীতি রয়েছে। বিজেপিশাসিত ওড়িশা সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে এলাকায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। অন্য দিকে, পদ্মশিবিরের দাবি, নিশ্চয়ই কোনও খুঁত ধরতে পেরেছে পুলিশ-প্রশাসন। সব মিলিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার ইস্যুতে তপ্ত হরিশ্চন্দ্রপুরের রাজনীতি।
হরিশ্চন্দ্রপুরের ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈরাট এলাকার পাঁচ জন-সহ পাশাপাশি কয়েকটি গ্রাম মিলিয়ে মোট ১৭ জন ওড়িশার বেলাগুঠা এলাকায় কাপড় এবং বিভিন্ন সামগ্রী ফেরি করে বেড়াতেন। ভোটের জন্য তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। তখনই বাধা আসে বলে অভিযোগ। ‘আক্রান্ত’ এক শ্রমিকের দাদার কথায়, ‘‘গতকাল (মঙ্গলবার) ওড়িশার পুলিশ ওদের কাছে নথিপত্র দেখতে চায়। তার পর রাতে ওদের আটক করেছে শুনলাম। শুধু বাংলায় কথা বলার কারণেই বাংলাদেশি বলে সন্দেহে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দ্রুত ওদের সকলকে মুক্তি দেওয়া হোক। বাংলাতেও অন্যান্য রাজ্যের মানুষ কাজ করেন। এখানে তো কাউকে এ ভাবে হেনস্থা হতে হয় না।’’
বুধবার ওই খবর চাউর হতেই নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও। বিজেপি চক্রান্ত করে এই হেনস্থা করছে বলে দাবি শাসকদলের। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ‘‘যারা বাংলাদেশি, তাদের এখানে স্থান নেই।’’