প্রতীকী ছবি।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে শিলিগুড়িতে মৃত্যু চলছেই। মঙ্গলবার ফের দু’জনের মৃত্যু হল। একজন কাওয়াখালির কোভিড হাসপাতালে। ৬৬ বছরের ওই ব্যক্তির বাড়ি ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে চম্পাসারি এলাকায়। ৫৪ বছরের আর এক জন মারা গেলেন মাটিগাড়ার কোভিড হাসপাতালে। তাঁর বাড়ি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। এর ফলে শিলিগুড়িতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১২ জন। তার মধ্যে ১০ জন শিলিগুড়ি পুর এলাকার বাসিন্দা। এ দিনই আবার অশোক ভট্টাচার্যের লালারসের পরীক্ষায় করোনা পজ়িটিভ এসেছে।
কাওয়াখালি কোভিড হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারই ওই ব্যক্তিকে এই হাসপাতালে পাঠানো হয়। তখনই তাঁর শ্বাসকষ্ট ছিল। নিউমোনিয়া বেড়ে গিয়েছিল। তার উপর হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। এদিন বেলা চারটে নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার শিলিগুড়ি শহরে নতুন করে ৬ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পরেছে। তার মধ্যে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্ত রয়েছেন ৩ জন। এক জন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১, ৪ এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। শহরে আক্রান্তের সংখ্যা দু’শো ছাড়িয়েছে। সুস্থও হয়েছেন তাঁদের অনেকে।
শিলিগুড়িতে যত জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের অর্ধেকের বেশি বয়স্ক মানুষ। এবং কোমর্বিডিটির শিকার, বলছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কয়েক জনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হলে তখন হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে নেওয়া হয়েছিল। শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শেখর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘করোনা সংক্রমণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেরে যাচ্ছে। যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই কোমর্বিডিটি বা অন্য রোগ থাকায় সমস্যা বেড়েছে। পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।’’ দার্জিলিং জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রে সময় মতো চিকিৎসা করাতে না যাওয়া এবং বয়স বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মাটিগাড়ার নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে নার্সিংহোম সূত্রে খবর। আরও জানানো হয়েছে, অক্সিজেনের প্রয়োজন গত দু’দিন বাড়তে থাকায় যে বিপ্যাপ পদ্ধতিতে অক্সিজেন দিতে হচ্ছিল। এ দিন তা খুলে দেওয়া হয়েছে। শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। খাওয়াদাওয়াও করেছেন। তবে লালারস পরীক্ষায় ফের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।