বালুরঘাটে ধৃত ৯

জাল নথি নিয়ে সিম, ফাঁস চক্র

ভোটার কার্ড কিংবা রেশন কার্ড নেই। অথচ চাই মোবাইলের সিমকার্ড! কুছ পরোয়া নেই। শুধু বাড়তি টাকা দিলেই একটি নয়, চাইলে পাঁচটি সিম-কার্ড মেলা ছিল সময়ের অপেক্ষা। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে জাল নথির মাধ্যমে সিম কার্ড বিক্রির জালিয়াতি চক্রের হদিশ পেয়ে এমনটাই জেনেছে পুলিশ। রবিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল পাণ্ডা সমেত ন’জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০১৬ ০২:৫৮
Share:

ভোটার কার্ড কিংবা রেশন কার্ড নেই। অথচ চাই মোবাইলের সিমকার্ড! কুছ পরোয়া নেই। শুধু বাড়তি টাকা দিলেই একটি নয়, চাইলে পাঁচটি সিম-কার্ড মেলা ছিল সময়ের অপেক্ষা।

Advertisement

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে জাল নথির মাধ্যমে সিম কার্ড বিক্রির জালিয়াতি চক্রের হদিশ পেয়ে এমনটাই জেনেছে পুলিশ। রবিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল পাণ্ডা সমেত ন’জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বালুরঘাট শহরের বঙ্গি এলাকায় বাড়িতে হানা দিয়ে ওই চক্রের মূল পান্ডা তাপস কুণ্ডু নামে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানির অনুমোদিত ডিলারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ হাজারখানেক জাল সিম কার্ড এবং রাবার স্ট্যাম্প তৈরির যন্ত্রও উদ্ধার করেছে। সেই সূত্র ধরে রাতভর অভিযান চালিয়ে মালদহের সামসি এলাকার বাসিন্দা এক যুবক-সহ শহরের বিভিন্ন মোবাইল বিক্রির দোকানের ৮ জন মালিককে জাল নথির মাধ্যমে সিম কার্ড বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার ধৃত ৯ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করে বালুরঘাটের সিজেএম আদালতে হাজির করিয়ে ১১ দিনের হেফাজতের আবেদন করে পুলিশ। বিচারক ভি এইচ ভুটিয়া ধৃতদের ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। বালুরঘাট থানার আইসি সঞ্জয় ঘোষ বলেন, দেশের একটি নামী কোম্পানির সিম বিক্রির অনুমোদিত ডিলার ধৃত তাপসবাবু। শহরের মারফি মোড়ে তাঁর একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিক্রির দোকান রয়েছে। ওই দোকান থেকে তিনি ভুয়ো নথি জোগার করে গ্রাহকদের চাহিদা মতো বেশি টাকায় সিম বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ। তাপসবাবুর মাধ্যমে গোটা বালুরঘাট শহর জুড়ে ওই কারবার রমরমিয়ে চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ধৃত তাপসবাবু ও তার সঙ্গী দোকানিরা রোজ গড়ে প্রায় ৫০০র উপর সিম বিক্রি করে কোম্পানির কাছে রীতিমত সুনাম অর্জন করেছিলেন। ফলে ওই কোম্পানির কাছ থেকে তাপসবাবু ঢালাও সিমের সরবরাহ পেতেন। পুলিশ তদন্তে জেনেছে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা ডাউনলোড করে সেখান থেকে অন্যের ছবি এবং নথি জেরক্স করে নিতেন। এরপর সাদা কালো ওই ছবিতে রঙ বসিয়ে কতকটা রঙিন করা হতো। এ বার ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড কিংবা রেশন কার্ডের মতো যাবতীয় নথি না থাকলেও সমস্যা হত না। যারা আগে জাল-নথির ওই সিম কার্ড হস্তগত করেছেন তাঁদের সূত্র ধরে বিদেশি গ্রাহকেরা বেশি টাকা দিয়ে ওই সিমকার্ড পেয়ে যেতেন।

বালুরঘাটের অদূরেই হিলিতেই রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া ওপার বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারীরা এই ভাবে বিনা নথিতে সহজেই ভারতীয় পরিচয় জোগার করে একাধিক সিম হাতে পেয়ে যেতেন বলে অভিযোগ। পুলিশ জেনেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহিলাদের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে ওই জাল নথি তৈরি করা হতো। জলপাইগুড়ির বাসিন্দা বেশ কিছু মহিলার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে জাল নথির মাধ্যমে রোজ ভুরি ভুরি সিমকার্ড বিক্রি চলছিল বলে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। ধৃত তাপসবাবু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোম্পানির ডিলার। দোকানিদের তিনি সিম সরবরাহ করতেন। জাল নথি তৈরির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement