প্রতীকী ছবি
শনিবার ভোর চারটায় এনজেপি স্টেশনে নেমেছেন ওঁরা আটজন। তারপরে ঘড়িতে যখন বিকেল চারটে বেজেছে তখনও কোয়রান্টিন কেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কোয়রান্টিন কেন্দ্রের সামনে কেউ শুয়ে, কেউ দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা চলেছে, কোয়রান্টিন কেন্দ্রের দরজা খোলেনি বলে অভিযোগ। চোখগুলো সব গর্তে ঢুকে গিয়েছে, দুপায়ে সোজা দাঁড়ানোর শক্তিও নেই। ওই দলে ছিল তামিলনাড়ুতে ইটভাটায় কাজ করা আসানুর। বললেন, “আজকের দিনটা দেখার পরে নিজেকেই প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে, আমরাও কী মানুষ?”
শনিবার ভোর থেকে দুর্ভোগ শুরু বলে দাবি শ্রমিকদের। তাঁদের দাবি, স্টেশনে নেমে সরকারি বাস পাননি তাঁরা। দীর্ঘ অপেক্ষা করে গাড়ি ভাড়া করেন। গাড়ি নিয়ে থানায় গেলে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে বারবার এ লাইন থেকে ও লাইনে দাঁড় করিয়েছে বলে অভিযোগ। তারপরে কোয়রান্টিন কেন্দ্রে পাঠালেও সেখানকার দরজা ওঁদের জন্য খোলেনি। অভিযোগ যে সেখানে বলা হয়েছে, ‘জায়গা নেই।’ দাঁড়িয়ে থেকে প্রথমে বৃষ্টিতে ভিজেছেন ওঁরা। ভেজা জামাকাপড় আবার রোদ লেগে গায়েই শুকিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দাবি, কোথাও একটা সমন্বয়ের অভাব হয়ে থাকতে পারে। কোয়রান্টিন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “ঠিক কী হয়েছে খোঁজ নিচ্ছি।” প্রশাসনের দাবি, শ্রমিকরাই দাবি তুলেছিলেন কোয়রান্টিন কেন্দ্র পরিষ্কার করা না হলে তাঁরা থাকবেন না। পরিষ্কার করতে সময় লেগেছে বলে দাবি প্রশাসনের।
রাজ্যের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে নির্দিষ্ট পাঁচটি রাজ্য থেকে এলে তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি কোয়রান্টিন কেন্দ্রে যেতে হবে। এই তালিকায় তামিলনাড়ু রয়েছে। এই আটজন সেখান থেকেই শ্রমিক স্পেশালে ফিরেছেন। অভিযোগ কোয়রান্টিনে যাওয়ার বাস না থাকায় আট হাজার টাকায় গাড়ি ভাড়া করে এনজেপি থেকে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় আসতে হয়েছে। শ্রমিক দলে থাকা মলয় রায় বলেন, ‘‘বাড়ি তো যেতে পারব না। কোন কোয়রান্টিনে থাকব জানি না। তাই থানায় যাই। তামিলনাড়ু থেকে আসছি শুনে থানায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যেতে বলে।”
সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সকাল ৯টায় পৌঁছে দু’ঘণ্টা ধরে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ। সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে লাগোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কোয়রান্টিনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে দাবি। জাহাঙ্গির আলম বলেন, “বিকেল সাড়ে চারটা বাজে, একটা বিস্কুটও কেউ দেয়নি। জলও না।” বিকেলের পরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারপরেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কোয়রান্টিন কেন্দ্রে সকলের জায়গা হয় বলে দাবি শ্রমিকদের।