—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
খুশির ইদের পরেই মাথায় হাত দিয়ে দাওয়ায় বসে একাধিক মহিলা। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে— মেনে নিতে পারছেন না কুমারগঞ্জের গঙ্গারামপুরের বাসুরিয়া পঞ্চায়েতের দামাহার গ্রাম সংসদের ৯ নম্বর অংশের বাসিন্দা সানিমা মণ্ডল। ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর বাবা ও মা উভয়েরই নাম ছিল বলে দাবি এমএ পাস সানিমার। তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডারও পান। ‘‘তাই কি নাম বাদ গেল?’’— প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন সানিমা। তাঁর বাড়িতে আরও মহিলাদের নাম বাদ গিয়েছে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের একটি বড় অংশে সংখ্যালঘুদের বাস। বাসুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসুরিয়া, দামাহার, লালচন্দ্রপুর, হামজাপুরের মতো সংসদগুলি থেকে শয়ে শয়ে মহিলার নাম বাদ গিয়েছে। দামাহার সংসদের আরও এক মহিলা ওয়ারিশা খাতুন জানান, তার ছোট্ট শিশুও এই পরিস্থিতির আঁচ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বাচ্চা বারবার আমাকে প্রশ্ন করছে, মা তোমাকে বাড়ি থেকে অন্য কোথাও নিয়ে চলে যাবে না তো?’’
এ দিন আতিয়া তারান্নুম আখতারি, মৌসুমী খাতুন জানান, তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের তালিকায় নাম ছিল। তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র নিয়ে তাঁরা শুনানিতে নিয়ে যান। কিন্তু তাও নাম বাদ গিয়েছে। আতিয়া বলেন, ‘‘এখন তো মনে হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করেই আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’’ বিষয়টি নিয়ে চাপে রয়েছে শাসকদল। এই প্রসঙ্গে কুমারগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তোরাফ হোসেন মণ্ডল বলেন, "পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি। ওদের বলেছি, নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে হবে।’’ কিন্তু কেন নাম বাদ গেল, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাননি মহিলারা। কিন্তু কেন নাম বাদ গেল, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজে পাননি মহিলারা। এ দিনই মহিলাদের নাম কাটার প্রসঙ্গ নিয়ে ময়নাগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমার মা বোনেরা না থাকলে দেশ চলে না, সংসার চলে না, রাজ্য চলে না, পৃথিবী চলে না। সব চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমার মা বোনেরা প্রস্তুত রয়েছে। একটা মা বোনের নাম বাদ দেওয়া মানে প্রত্যেক মা বোনের নাম বাদ দেওয়া।’’
এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘অভিযোগ ঠিক নয়। বিষয়টি বিচার বিভাগীয় নজরদারিতে হয়েছে। বিচার বিভাগকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না।’’ জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, ‘তালিকা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি। কী ভাবে, কোথায় আবেদন করতে হবে, কিছুই আমাদের জানানো হয়নি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে