শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে মোদীর জনসভা। ছবি: বিনোদ দাস।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গলাতেও শোনা গেল, টুকরে-টুকরে গ্যাং-এর কথা। রবিবার দুপুরে শিলিগুড়ির কাওয়াখালি উপনগরীর মাঠে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় তিনি এ কথা বলেন। যা নিয়ে বিজেপি-তৃণমূলে তরজা শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘এখানে টুকরে-টুকরে গ্যাং রয়েছে। এই গ্যাং শিলিগুড়ি করিডরকে কাটার হুমকি দিয়েছিল। উত্তর-পূর্বকে দেশ থেকে পৃথক করার হুমকি দিয়েছিল। আর তৃণমূল তুষ্টিকরণের রাজনীতির জন্যে এই লোকগুলিকে সংসদে পাঠায়।’’
রাজ্যের শাসক দলের দাবি, বিজেপি টুকরে-টুকরে গ্যাং বলে দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি বুঝিয়ে থাকে। ও দিকে, কেএলও-র জীবন সিংহের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগের কথা চাউর রয়েছে। কোচবিহারে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজেরা নানা দাবি তোলেন। এ দিন মোদীর সভামঞ্চে বিমল গুরুং, মন ঘিসিংদের মতো পাহাড়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অনেকে আলাদা রাজ্যের দাবিদার। সেই জায়গা থেকে মোদীর সভায় রাজ্যভাগের দাবিদারেরা উপস্থিত ছিলেন, অভিযোগ তৃণমূলের। বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রী টুকরে-টুকরে গ্যাং বলতে জমি মাফিয়াদের কথা বোঝাতে চেয়েছেন। এর মধ্যে দেশ বা রাজ্য ভাগের সম্পর্ক নেই।
সভামঞ্চে এ দিন এনডিএ-র জোট সঙ্গী দার্জিলিং পাহাড়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং, সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি, জিএনএলএফের সভাপতি মন ঘিসিং, দার্জিলিঙের প্রাক্তন বিধায়ক নীরজ জিম্বা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পাহাড় সমস্যা বা পাহাড় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি কথাও বলেননি। যা নিয়ে পাহাড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের শিলিগুড়ির প্রার্থী তথা দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য গৌতম দেব বলেন, ‘‘প্রতি ভোটের আগে এসে চা বাগান থেকে পাহাড়, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেওয়া ছাড়া কিছুই দেন না। নানা গ্যাং-র কথা বলছেন, জেলে ভরার কথা বলছেন। ওঁরাই বিচ্ছিন্নতাবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছেন।’’
সভায় বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই বিশেষ ভিজিল্যান্স কমিশন বসাবে এবং তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের জেলে পাঠানো হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি উত্তরবঙ্গের জন্যে কী কাজ করেছে তার খতিয়ান তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী এই দিন বলেন, ‘‘সেবক-রংপো রেল যোগাযোগের কাজ দ্রুত হচ্ছে। এই প্রকল্প বাংলা ও সিকিমের পর্যটন ব্যবসায় অনেক ভাল প্রভাব ফেলবে।’’
সভার শুরুতে উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি। তৃণমূল ১৫ বছরে উত্তরবঙ্গকে চিকিৎসা থেকে পর্যটন, চা শিল্প, শিক্ষা, পর্যটন এবং সার্বিক উন্নয়নের সবক্ষেত্রেই বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর। তিনি মাদ্রাসার বাজেট নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন। প্রতিক্রিয়ায় গোটা বাংলাকে গত পাঁচ বছর ধরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বঞ্চিত করে চলেছে বলে তৃণমূল অভিযোগ করেছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে