ফাইল চিত্র।
দার্জিলিঙের উন্নয়ন নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনায় কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু স্থানীয় ভোটে জোট বা আসন রফা একদম নয় বলে সোজাসুজি জানিয়ে দিলেন হামরো পার্টির সভাপতি অজয় এডওয়ার্ড৷
তবে একই সঙ্গে, লোকসভার মতো বড় ভোটে অবশ্যই জোট হতে পারে বলে জানিয়েছেন অজয়। রবিবার দার্জিলিঙের বিভিন্ন দলের যুব নেতাদের কয়েকজন হামরো পার্টিতে যোগও দেন। এঁদের মধ্যে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কয়েকজন যুব নেতাও আছেন। সবাইকে পুরনো দলের অতীত ভুলে নতুন দার্জিলিং গড়ার জন্য কাজে নামার নির্দেশ দেন অজয়। তাঁর কথায়, ‘‘দার্জিলিংকে নতুন করে তৈরির জন্য মানুষ আমাদের উপর ভরসা রেখেছে। সেই কাজ করতে হবে। দ্রুত পুরবোর্ডে দায়িত্ব নিয়ে কাজে নামবে। আমরা দলকে মজবুত করার কাজ করব।’’
এ বার দার্জিলিং পুরসভা ভোটে তিনমাস আগে তৈরি হামরো পার্টি ৩২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে জিতেছে। পুরসভায় দ্বিতীয় হয়েছে আর একটি নতুন দল অনীত থাপার প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। দলীয় সূত্রের খবর, গত বছর জিএনএলএফ ছাড়ার পর অজয়ের সঙ্গে অনীতের দলের তরফে যোগাযোগ করা হয়। তিনি রাজি হননি বলে খবর। একাই রাস্তায় চলবেন বলে বন্ধু অনীতকে জানান। ভোটে জেতার পর প্রথম অজয়ের বাড়িতে পৌঁছে যান তৃণমূলের বিনয় তামাং, এনবি খাওয়াসেরা। অন্য বিভিন্ন দলের তরফে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। দু’দিন আগেই লাদাখের স্বশাসিত কাউন্সিলের কংগ্রেসের সদস্যরা দার্জিলিং এসেছিলেন। তাঁরা অজয়ের সঙ্গে বৈঠকও করেন। কাউন্সিল চালানো নিয়ে অজয় খুঁটিনাটি খোঁজ নেন। তাতে কংগ্রেসের সঙ্গে অজয়ের কাছাকাছি আসা নিয়ে নানা কথা চাউর হয়।
তাই দলবদলের অনুষ্ঠানে অজয় নিজেই জানিয়ে দেন, পাহাড়ের স্থানীয় পুরসভা, পঞ্চায়েত বা জিটিএ ভোটে দল একাই লড়বে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আঞ্চলিক দল হিসাবে সামনে এসেছিলাম। এখানেই আমাদের পরিচিতি। ভোটে আমরা একা লড়ব। লোকসভার মতো ভোটে জোট হতেই পারে। ২০২৪ সাল দেরি আছে, ততদিন রাজনীতিতে কী হবে কেউ জানে না।’’
দলীয় সূত্রের খবর, পাহাড়ের রাজনীতিতে অজয় ‘আপাতত’ বিজেপির সঙ্গে যাবেন না, তা এখনও স্পষ্ট। কারণ, তাঁকে জিএনএলএফের একটা অংশ বিধানসভায় দাঁড় করাতে চাইলেও বিজেপি নেতারা তা চাননি। সেখানে নীরজ জিম্বাকে টিকিট দেওয়া হয়। সেই তুলনায় তৃণমূল বা কংগ্রেসের মতো দলগুলির নেতাদের সঙ্গে হামরো পার্টির সম্পর্ক বেশি ভাল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অজয়ের ব্যক্তিগত পরিচয় আছে। জিএনএলএফে থাকার সময় তিনি একাধিকবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অজয় বলেন, ‘‘আমরা জিটিএ চাই না। কিন্তু সরকার ভোট ঘোষণা করলে ফাঁকা মাঠ কাউকে ছাড়ব না। আইন, সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই কাজ করতে চাই।’’